Welcome to, Dhaka Pain Physiotherapy & Rehabilitation Center (DPRC) Ltd.

Opening Hours : Always Open
  Hotline : 09 666 77 44 11

All posts by shafiullah

জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

 

জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

জলপাই একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় টক ফল। এর বৈজ্ঞানিক নামঃ Elaeocarpus serratus, এটি সিলন অলিভ (Ceylon olive) নামেও পরিচিত।

জলপাই বাংলাদেশে একটি সুপরিচিত ফল। কাঁচা জলপাই বেশ পুষ্টিকর, প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। কাঁচা ফল টাটকা, রান্না করে ও আচার তৈরী করে খাওয়া হয়। জলপাই আচারের জন্য দুর্দান্ত। কাঁচা ফলগুলি প্রথমে সেদ্ধ করা হয়। তারপর কড়াইতে তেল গরম করে তাতে বিভিন্ন মসলার মধ্যে ঢেলে দিয়ে পরে চিনি ও জল দিয়ে আবার কিছুক্ষণ রান্না করার পর ঠাণ্ডা করে পরিবেশন বা সংরক্ষণ করা হয়।

জলপাইয়ের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা আপনার কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে যেমন সহায়তা করে; তেমনি ক্ষুদ্রান্ত থেকে শুরু করে পাকস্থলীর নানা জটিলতা সারিয়ে তুলতেও বেশ সহায়তা করে। অন্যদিকে জলপাই থেকে যে তেল পাওয়া যায়, তা খুব-ই উপকারী মানব শরীরের জন্য। তাই গুণেভরা এ ফলটি লিকুইড গোল্ড কিংবা তরল সোনা নামেও বেশ পরিচিত। কিছুটা পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, গ্রিক সভ্যতার শুরু থেকেই জলপাইয়ের চাহিদা ছিল তাদের কাছে অন্যান্য ফলের চেয়ে সবচেয়ে বেশি। রান্নার কাজ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞান- সব জায়গায়-ই তাই ইতিহাসের পাতায় মিলে জলপাইয়ের নানা ব্যবহার।

চলুন জেনে নেওয়া যাক জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ: –

জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • সর্দি, জ্বর ইত্যাদি দূরে থাকে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ত্বক ও চুলের যত্নে খুবই কার্যকরী।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • জলপাইয়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হার্ট ব্লক হতে বাধা
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • দেহের ভেতরের ফ্যাট সেলকে ভাঙতে সাহায্য করে।
  • কালো জলপাই আমাদের দেহে রক্ত চলাচল করাতে সহায়তা করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • হজমে সহায়তা করে।
  • জলপাই চোখের জন্য উপকারী।
  • জলপাই অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • ত্বকের ইনফেকশন ও অন্যান্য ক্ষত সারাতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে।
  • জলপাই শরীরে দরকারি ভিটামিন ও অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করে।
  • জলপাইতে অলেইক এসিড রয়েছে, আর এই অলেইক এসিড হার্টের সুরক্ষার কাজ করে।
  • জলপাইতে পলিফেনল থাকে। এটা মস্তিষ্কে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়।
  • জলপাইতে অলেইক এসিড আছে। এই অলেইক এসিড ত্বককে রাখে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর।
  • নিয়মিত জলপাই খেলে ত্বকের বলিরেখা ২০ শতাংশ কমে যাবে।

জলপাই এর পুষ্টিমান:

প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ে খাদ্যশক্তি ৭০ কিলোক্যালরি, ৯ দশমিক ৭ শর্করা, ৫৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি।

আরএম/ ১১ জুন, ২০২১

Read More

জাম্বুরার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

জাম্বুরার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

জাম্বুরা এক প্রকার লেবু জাতীয় টক-মিষ্টি ফল। বিভিন্ন ভাষায় এটি পমেলো, জাবং, শ্যাডক ইত্যাদি নামে পরিচিত। কাঁচা ফলের বাইরের দিকটা সবুজ এবং পাকলে হালকা সবুজ বা হলুদ রঙের হয়। এর ভেতরের কোয়াগুলো সাদা বা গোলাপী রঙের। এর খোসা বেশ পুরু এবং খোসার ভিতর দিকটা ফোম এর মত নরম । লেবু জাতীয় ফলের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড়। যা ১৫-২৫ সেমি ব্যাস বিশিষ্ট হয়ে থাকে।  এর ওজন ১-২ কেজি হয়।

ভিটামিন ‘সি’-সমৃদ্ধ দেশি ফল জাম্বুরা। জাম্বুরা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের একটি অত্যন্ত পরিচিত ফল। অঞ্চলভেদে এটিকে অনেক জায়গায় বাতাবি লেবুও বলা হয়ে থাকে। তবে জাম্বুরা বা বাতাবি লেবু—যাই বলি না কেন ফলটি খুবই ভিটামিনসমৃদ্ধ একটি ফল। জাম্বুরা বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে। কোনো জাতের ভেতর লাল টকটকে। কোনোটির ভেতর আবার সাদা। কোনোটির স্বাদ মিষ্টি আবার কোনোটির স্বাদ টক হয়। বাংলাদেশে মৌসুমি ফল হিসেবে এর যথেষ্ট সমাদর রয়েছে। বিশেষত ভিটামিন সি বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় জাম্বুরাতে। জাম্বুরা আমাদের দেশ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন ভারত, চীন, জাপান, ফিজি, এমনকি আমেরিকাতেও উত্পন্ন হয়। স্থানভেদে বাতাবি লেবুর রসালো কোষগুলো হলুদ, লাল ও গোলাপি হয়ে থাকে। বাতাবি লেবুর খাদ্য উপাদান যাদের গ্যাসিডিটি বা গ্যাস আছে তাদের জন্য বেশ উপকারী। তাছাড়াও বাতাবি লেবুতে আছে বায়োফ্লভনয়েড যা ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করে। আর এতে বিদ্যমান ভিটামিন সি রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বাড়ায়। ডায়াবেটিস, জ্বর, নিদ্রাহীনতা, মুখের ভেতরের ঘা, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাছাড়া বাতাবি লেবুর ভিটামিন কোলেস্টেরেল নিয়ন্ত্রণ করে, সেইসঙ্গে বিভিন্ন হৃদরোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে। অতিরিক্ত ওজন কমাতেও সাহায্য করে বাতাবি লেবু। মানবশরীরের অন্যতম একটি নিয়ামক হলো রক্ত। এই রক্ত পরিষ্কারে যথেষ্ট সাহায্য করে বাতাবি লেবু। চলুন জেনে নেওয়া যাক জাম্বুরার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ ঃ

জাম্বুরার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ ঃ

  • জাম্বুরা ঠান্ডা, সর্দি-জ্বর জনিত সমস্যার জন্য খেলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায় ।
  • জাম্বুরা আন্ত্রিক, অগ্ন্যাশয় ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
  • ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে।
  • এটি দেহের অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • জাম্বুরা রক্তনালীর সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • ডায়াবেটিস, জ্বর, নিদ্রাহীনতা, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • এছাড়া কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে।
  • বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে জাম্বুরা।
  • নিয়মিত জাম্বুরা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় ও পেটের নানা রকম হজমজনিত সমস্যার প্রতিকার হয়।
  • রক্তচলাচল বৃদ্ধি করে।
  • মজবুত হাড় করে।
  • দৃষ্টি শক্তির জন্যে উপকারী।
  • মাড়ির রোগ সাড়ায়।
  • কিডনিতে পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে।
  • এসিডিটি রোধে জাম্বুরা।
  • রক্ত পরিষ্কার রাখে।
  • বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
  • রুচি বাড়ায়।
  • ত্বক ভালো রাখে।

জাম্বুরার পুষ্টিমান:

জাম্বুরা একটি ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। এর পুষ্টিমান অনেক উন্নত। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য জাম্বুরায় রয়েছে খাদ্যশক্তি ৩৮ কিলোক্যালরি। প্রোটিন ০.৫ গ্রাম। স্নেহ ০.৩ গ্রাম। শর্করা ৮.৫ গ্রাম। খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম। থায়ামিন ০.০৩৪ মিলি গ্রাম। খনিজ লবণ ০.২০ গ্রাম। রিবোফ্লেভিন ০.০২৭ মিলি গ্রাম। নিয়াসিন ০.২২ মিলি গ্রাম। ভিটামিন বি২ ০.০৪ মিলি গ্রাম। ভিটামিন বি৬ ০.০৩৬ মিলি গ্রাম। ভিটামিন সি ১০৫ মিলি গ্রাম। ক্যারোটিন ১২০ মাইক্রো গ্রাম। আয়রন ০.২ মিলি গ্রাম। ক্যালসিয়াম ৩৭ মিলি গ্রাম। ম্যাগনেসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম। ম্যাংগানিজ ০.০১৭ মিলিগ্রাম। ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম। পটাশিয়াম ২১৬ মিলিগ্রাম। সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম।

আরএম/ ৯ জুন, ২০২১

Read More

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত বা গাউট হচ্ছে একটি প্রদাহজনিত রোগ; এতে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি ও এর আশেপাশের টিস্যুতে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল জমা হয়। সাধারণত মাত্র ১-২% লোক এই রোগে আক্রান্ত হয় তবে মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা ৫ গুণ বেশি আক্রান্ত হয়। এটি পুরুষ ও বৃদ্ধা মহিলাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষণীয় প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস। পুরুষরা সাধারণত ৩০ বছরের পর এবং মহিলারা ৪০ বছরের পরে বেশি আক্রান্ত হয়। বয়স বৃদ্ধি ও রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে তবে বয়স ও ওজন বাড়লে রক্তে ইউরিক এসিডও বাড়বে। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে তাকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলে।

রক্তে ইউরিক এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা হলো পুরুষের ক্ষেত্রে ২.০-৭.০ mg/dL ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.০-৬.০ mg/dL।

যদিও হাইপারইউরিসেমিয়ার ফলে উচ্চরক্তচাপ, ভাস্কুলার রোগ, বৃক্কীয় রোগ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়লেও খুব অল্পসংখ্যক লোকের ক্ষেত্রে গাউট করে। সাম্প্রতিককালে মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পাওয়া ও মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত হবার হার বেড়ে যাওয়ার সাথে সমান্তরালভাবে গাউটে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। ঐতিহাসিকভাবে এটাকে “রাজাদের রোগ” বা ধনীদের রোগ বলে।

রোগটি হওয়ার প্যাথলজি:

আমাদের শরীরের মূল্যবান একটি উপাদান পিউরিন। পিউরিন মেটাবলিজম থেকে এই রোগের উৎপত্তি হয়। পিউরিন যখন ভেঙে যায় এবং ভেঙে গিয়ে যখন সর্বশেষ অবস্থায় পরিণত হয় তখন আমরা এটাকে বলি ইউরিক এসিড। ইউরিক এসিড যখন শরীরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং জমা হতে থাকে, বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ এবং জয়েন্টের মধ্যে তখন এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়।

গেঁটে বাত একপ্রকার সিনড্রোম, যা ইউরেট নামের একধরনের লবণদানা জমে জোড়া বা সঞ্চিত সৃষ্ট প্রদাহ, যা শরীরের রক্তের প্লাজমায় অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির ফলে ঘটে থাকে। গেঁটে বাত স্বল্পকালীন তীব্র প্রদাহ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ—এই দুই প্রকারের হতে পারে। আবার যে কারণে রক্তের ইউরেট লবণ বেড়ে যায়, তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন পারিপার্শ্বিক বা পরিবেশগত কারণ, ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাসের কারণে বা ব্যক্তির জন্মগত ত্রুটির কারণে, যাকে জেনেটিক কারণও বলা যায়।

অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড দেহে দুইভাবে জমতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন ও ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে নির্গত হতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া। ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে সাধারণত কিডনির সাহায্যে বের হয়। কোনো কারণে, বিশেষ করে কিডনির রোগের কারণে কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাসে অসুবিধা হতে পারে।

কিভাবে রোগী বুঝবে?

এটি সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের জয়েন্টকে আক্রান্ত করে। গাউটের সঙ্গে যুক্ত কিছু সাধারণ লক্ষণ এবং উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • হাঁটু, পায়ের আঙ্গুল, কনুই এবং হাতের আঙ্গুল গুরুতর এবং আকস্মিক ব্যথা।
  • প্রভাবিত অংশের উপর গরম ত্বক ফোলা এবং লাল হওয়া।
  • জ্বর এবং কাঁপুনি।
  • এটি হঠাৎ করে বাহ্যিক কোন কারণ ছাড়ায় হতে পারে এবং সাধারণত রাতে বেশি হয়।
  • খুব দ্রুত ব্যথা শুরু হয়ে ২-৬ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে
  • প্রায়শই ভোরবেলা রোগীর ঘুম ভেঙ্গে যায়।
  • ব্যথা এতই তীব্র হয় যে রোগী পায়ে মোজা পরতেও পারেনা
  • আক্রান্ত জয়েন্ট বেশ ফুলে যায়
  • অবসাদগ্রস্ততা থাকতে পারে।
  • আক্রান্ত স্থান চুলকায় ও চামড়া উঠে যেতে পারে।
  • জয়েন্ট ও এর আশেপাশের টিস্যুতে ক্রিস্টাল জমা হয়ে নডিউল বা দলা তৈরি করতে পারে। টোফাসে ঘা হতে পারে
  • প্রদাহ হয়ে পুঁজ বের হতে পারে।
  • ক্ষতিগ্রস্ত গাঁট খুব কম নড়ানো যায়।

কারণগুলি কি কি:

  • আপনার রক্ত প্রবাহে ইউরিক অ্যাসিড জমে যাওয়া এবং জয়েন্টে ইউরেট স্ফটিকের গঠন হওয়া।
  • জিনগত এবং পরিবেশগত বিষয়গুলির সমন্বয়।
  • খাদ্যে নির্দিষ্ট পিউরিনের মাত্রা।
  • স্থূলতা।
  • অতিরিক্ত মদ খাওয়া।
  • সিউডোগাউট (বা একিউট ক্যালসিয়াম পাইরোফসফেট আর্থ্রাইটিস)।

শরীরের কোন কোন জোড়া বা স্থান আক্রান্ত হয়:

শতকরা ৫০ জনের দেখা যায়, বুড়ো আঙ্গুলের মাথা থেকে শুরু হয়। বাকি ৫০ শতাংশের বুড়ো আঙ্গুলের মাথা ছাড়াও হচ্ছে। অর্থাৎ পায়ের পাতার অন্যান্য যে অংশগুলো বা পাতার জয়েন্টগুলো থেকে এই ব্যথার উৎপত্তি হতে পারে।  আরো একটু উপরের দিকে, আমরা যেটাকে বলি গোড়ালির জয়েন্ট; সেটা থেকেও হতে পারে। তারপর আরো একটু উপরে হাঁটু পর্যন্ত হতে পারে। এখানে একটি বিষয় মজার, গাউট কিন্তু একটু দূরের জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করতে চায়। একজন যদি মেরুদণ্ড, কোমর বা ব্যাকপেইন নিয়ে আসে আমার প্রথমেই চিন্তুা হবে এটা গাউটের বাত নয়। গাউটের বাত হবে একটু পেরিফেরির দিকে। পায়ের দিকে, হাতেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ছোট ছোট জয়েন্টগুলো আক্রমণ করতে পারে। তবে হাতে আক্রমণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়।

কী খাওয়া যাবে না:

  • কোমল পানীয়।
  • প্রাণীর কলিজা।
  • মগজ।
  • গিলা।
  • গরু, খাসি, ভেড়ার মাংস (চার পা পশুর মাংস)।
  • সামুদ্রিক মাছ সতর্কতার সাথে খেতে হবে।
  • ডাল জাতীয় খাবার।
  • চিনি ও তৈরী মিষ্টান্ন।

গাউটের জটিলতা হল:

১. কিডনি স্টোন: 

গাউটে আক্রান্তদের মূত্রনালিতে ইউরেট ক্রিস্টাল তৈরি হয়, যা কিডনি স্টোনের কারণ। ওষুধের প্রয়োগে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কমানো যায়।

২. পরিণত বা অ্যাডভানস গাউট:

গাউটের চিকিৎসা না হলে, ত্বকের নীচে ইউরেট ক্রিস্টাল গুটি বা ক্ষুদ্র আবের আকারে তৈরি হয়ে ও জমা হয়, যাকে টোফি (টো-ফাই) বলে এবং এটা হাতে, আঙুলে, পায়ে, অ্যাকিলিস টেন্ডন বা কনুই এবং গোড়ালির পেছন দিকে হতে পারে। এই ক্ষুদ্র আব বা গুটি ব্যথার উদ্রেক না করলেও, গাউটের সময়ে নরম হয়ে ফুলে যায়।

৩. বার বার হওয়া বা রেকারেন্ট গাউট:

অনেকেই গাউটের লক্ষণ বুঝতে না পারলেও, অন্যরা কিন্তু প্রত্যেক বছর অনেক বার গাউটের লক্ষণ বুঝতে পারে। বার বার গাউট হলে, ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব। চিকিৎসা না হলে ক্ষয় হয় এবং শেষপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গাঁট ধ্বংস হয়ে যায়।

৪. অবসাদ ও হতাশা গ্রস্ততা:

অনেক সময় রোগীর অবসাদ ও হাতাশা গ্রস্ততা হতে পারে। কোনো ‍কিছুতে ভালো না লাগা। কোনো কাজ করতে না ইচ্ছা হওয়া। এছাড়াও শরীর সবসময়ই দূর্বল লাগতে পারে।

রোগ নির্ণয় 

  • রোগীর পূর্ব ইতিহাস থাকে জানা যায়।
  • মাঝরাতে তার তীব্র ব্যথা হচ্ছে কিনা।
  • চামড়াটা লাল হয়ে যাবে।
  • ফুলে যাবে।
  • রোগীর হাঁটতে কষ্ট হবে।
  • সিনোভিয়াল ফ্লুয়িড পরীক্ষা
  • ডুয়াল এনার্জি সিটি স্ক্যান
  • আলট্রাসাউন্ড
  • এক্স-রে 
  • অনেক সময় রোগীর জয়েন্ট থেকে ফ্লুইড নিয়ে মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করা।
  • এছাড়াও ক্লিনিক্যাল ফিচার দেখে বুঝা যায়।
  • রক্ত পরীক্ষা
  • স্পাইকের মতো রড আকৃতির ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল যা অস্থিসন্ধি থেকে নেয়া তরল থেকে পাওয়া।
  • জয়েন্ট থেকে তরল বের করে পরীক্ষা করলে ইউরেট ক্রিস্টাল পাওয়া যাবে।
  • ব্লাড গ্লুকোজ।
  • লিপিড প্রোফাইল।
  • এক্সরে- ক্রনিক গাউটে অস্থিক্ষয়ের চিহ্ন পাওয়া যায়
  • এছাড়া অ্যাকিউট গাউটে ESR, CRP, নিউট্রোফিল ও ইউরিক এসিডের সংখ্যা বেড়ে যায়।

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ এর চিকিৎসা ওষুধ:

চিকিৎসা:

গাউটের চিকিৎসা নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির মাধ্যমে হয়:

  • খাদ্য এবং জীবনধারায় পরিবর্তন করে।
  • হাইপারইউরিসেমিয়ার সঙ্গে যুক্ত ওষুধগুলি পরিবর্তন করে অথবা বন্ধ করে (যেমন, ডিউরেটিক)।
  • ইউরিক অ্যাসিড কমানোর এজেন্টের ব্যবহার।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য খেয়ে।
  • পর্যাপ্ত মাত্রায় শারীরিক কার্যকলাপ করে।
  • আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগাতে হবে।
  • বিশ্রামে রাখতে হবে।
  • অ্যালোপিউরিনল।
  • ফেবুক্সস্ট্যাট।
  • বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
  • ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে।
  • মদ্যপানের অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে।
  • প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাছ, মাংস (হাঁস, ভেড়া, কবুতর, খাসি ইত্যাদি), ডিম, শিমের বিচি, কলিজা ইত্যাদি খাওয়া যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে।
  • যেসব রোগের কারণে গিঁটে ব্যথা হয়, সেসব রোগের যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে।
  • কিছু ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • রিহ্যাবিলিটেশন ও ফিজিক্যাল থেরাপি।
  • ওজন কমাতে হবে।
  • কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী।
  • বেশি পিউরিন আছে এমন খাবার কম খাওয়া ভালো যেমনঃ বিভিন্ন ধরনের ডাল বিশেষ করে মসুর ডাল ও মটর ডাল। শিম, শিমের বিচি, বরবটি, মটরশুঁটি, কড়াইশুঁটি, পুঁইশাক, পালং শাক, অ্যাসপ্যারাগাস, ফুলকপি, মাশরুম, কচু, ইস্ট, লাল মাংস যেমন গরু, খাসি, ভেড়া, হরিণ, সব ধরনের হাঁসের মাংস যেমন- রাজহাঁস, জংলি হাঁস ও পাতিহাঁস; শূকর ও খরগোসের মাংস, বড় পাখির বা তুর্কি মোরগের মাংস, কবুতর ও তিতির পাখির মাংস। মগজ, কলিজা, বৃক্ক, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, জিহ্বা, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ও মাছের ডিম, সামুদ্রিক খাবার, কাঁকড়া, চিংড়ি, শামুক ইত্যাদি।
  • ফলমূল, অন্যান্য শাকসবজি প্রচুর খেতে হবে।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচা মরিচ, আমলকী, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি প্রচুর খেতে হবে।
  • কম পিউরিন সমৃদ্ধ আরো খাবারের মধ্যে আছে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য (দৈ, ঘি, মাখন), ডিম, চীনাবাদাম, লেটুস, পাস্তা, সাগু, ময়দা ইত্যাদি।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে যেন প্রতিদিন ২ লিটার বা তার বেশি প্রস্রাব হয় এতে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং ইউরিনারি ট্রাক্টে ইউরেট জমা হয়ে পাথর হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
  • যে সকল ওষুধ ইউরিক এসিড লেভেল বাড়ায় যেমন থিয়াজাইড ডাইউরেটিকস্, অ্যাসপিরিন, নিয়াসিন ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

ওষুধ

১. করটিকোস্টেরয়েড:

এই ওষুধগুলো ড্রাগ প্রেডনিসোনের মতন, যা গাউটের ব্যথা এবং জ্বালা-লাল হয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই ওষুধ পিল হিসেবে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে গাঁটে দেওয়া যায়।

২. কলচিসাইন:

ডাক্তার কলচিসাইনের পরামর্শ দিতে পারেন, এই ব্যথা নিরাময় কারি ওষুধ কার্যকারীভাবে  গাউটের ব্যথার উপশম করে।

৩. অন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি ড্রাগ:

এনএসএআইডি-র মধ্যে দোকানে পাওয়া ওষুধের ভেতরে নাপ্রোক্সিন সোডিয়াম ও ইবুপ্রোফান অন্যতম। শক্তিশালী এনএসএআইডি-র মধ্যে সেলেকোক্সিব বা ইন্ডোমিথাসিন অন্যতম।

৪. ইউরিক অ্যাসিডের উন্নততর নিষ্কাশন করে যে ওষুধ:

প্রোবেনেসাইড কিডনির ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিডের নিষ্কাশন বাড়ায়। এভাবে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং গাউট হবার ঝুঁকি কমলেও, মূত্রে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কিন্তু বেড়ে যায়।

৫. ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন বন্ধ করে যে ওষুধ:

এক্সানথাইন অক্সিডেজ ইনহিবিটারের মতন ওষুধের মধ্যে ফেবুক্সোস্টাট এবং অ্যালোপুরিনল অন্যতম, যা শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং যার জন্য রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং গাউট হবার ঝুঁকি কমে যায়।

চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো ব্যথা কমানো। এক্ষেত্রে NSAID যেমন ন্যাপ্রক্সেন, আইবুপ্রফেন, ইনডোমেথাসিন খুবই কার্যকর। আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগালে কিছুটা উপশম পাওয়া যায়। কোলচিসিন একটি কার্যকরী ঔষধ তবে এটি বমি ও ডায়রিয়া করতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ রোগের তীব্রতা কমাতে খুব ফলপ্রসূ। এক্ষেত্রে আক্রান্ত জয়েন্টে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দিলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ হলো ইউরেট এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনা; এক্ষত্রে জ্যানথিন অক্সিডেজ ইনহিবিটর যেমন অ্যালোপিউরিনল, ফেবুক্সোস্ট্যাট ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখতে ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ শুরু করার পরপর গাউটের ব্যথা বাড়তে পারে। রোগীকে পূর্বেই এ ব্যাপারে সতর্ক ও আশ্বস্ত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ না রেখে খাওয়া চালিয়ে যাবার কথা বলা হয়। প্রতি ৬ মাস পর ইউরিক এসিড লেভেল মনিটর করার সুপারিশ করা হয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেট কমানোর ঔষধ চালিয়ে যেতে হয়।

আরেকরকম ঔষধ হলো ইউরিকোসুরিক ড্রাগস যেমন প্রবেনিসিড অথবা সালফিপাইরাজোন, এগুলোও বেশ কার্যকর। কিডনি খারাপ থাকলে বা যাদের শরীরে ইউরিক এসিড বেশি তৈরি হয় তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ নিষিদ্ধ কারণ এটি কিডনিতে পাথর করতে পারে।

পিগ্লোটিকেজ (একটি রিকম্বিনান্ট ইউরিকেজ) নামে আরেকটি ঔষধ আছে যেটি টোফাসযুক্ত গাউট সাধারণ চিকিৎসায় ভালো না হলে ব্যবহার করা হয় তবে এর একটি অসুবিধা হলো এটাতে অ্যানাফাইল্যাক্টিক রিয়াকশন হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

(১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)

শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে

সিরিয়ালের জন্য ফোন: 01997702002 অথবা 09666774411

মেডিকেলবিডি/আরএম/ ৭ জুন, ২০২১

Read More

আমড়ার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আমড়ার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আমড়ার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আমড়ার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

পুষ্টিতে ভরপুর আমড়া একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় দেশীয় ফল। আমড়াতে রয়েছে আপেলের চাইতে  বেশী প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রন। এছাড়া আমাদের দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ভিটামিন সি রয়েছে । আমড়ার উপকারিতা ও গুণাগুণ আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আমড়া আমাদের সকলের নিকট প্রিয় একটি ফল। আমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যারোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য পরিমাণে প্রোটিন, পেকটিন জাতীয় ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। আসুন জেনে নেই আমড়ার উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে-

আমড়ার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করে শরীরকে সুস্থ রাখে।
  • আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয় এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।
  • ঠাণ্ডা, কাশি ও কফ দূর করে।
  • রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে
  • স্ট্রোক ও হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
  • দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে
  • শরীরের পেশী গঠনে সহায়তা করে।
  • ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর রাখতে আমড়া বেশ সাহায্য করে।
  • যারা রক্ত স্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্য আমড়া খুবই উপকারী।
  • রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
  • আমড়া খেলে অরুচিভাব দূর হয়।
  • মুখে রুচি ফিরে আসে, ক্ষুধা বৃদ্ধি করে।
  • ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ
  • স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
  • হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর টক-মিষ্টি স্বাদের জনপ্রিয় দেশি ফল আমড়া। কাঁচা আমড়া কাঁচা তো খাওয়া যায়-ই, আবার রান্না করেও খাওয়া যায়। পাকা আমড়াও আচার, মোরব্বা, সালাদ, চাটনি তৈরিতে ব্যবহার হয়। মুখরোচক ফল হিসেবে একটি আমড়ায় প্রায় তিনটি আপেলের সমান পুষ্টি থাকে। বর্তমানে বিশ্ব মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধে দামে সস্তা দেশি ফল আমড়ার জুড়ি নেই। আমড়া ভিটামিন ‘সি’-এর ভালো উৎস। ভিটামিন ‘সি’ একটি অত্যাবশ্যকীয় ও প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত আমড়া খেলে বিভিন্ন অসুখ থেকে দূরে থাকা যায়।

আমড়ার পুষ্টিগুণ:   

১০০ গ্রাম আমড়া খেলে তা থেকে ১ দশমিক ১ গ্রাম প্রোটিন, ১৫ গ্রাম শ্বেতসার, শূন্য দশমিক ১০ গ্রাম স্নেহ জাতীয় পদার্থ এবং ৮০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ভিটামিনের মধ্যে ০.২৮ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ০.০৪ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন, ৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও রয়েছে ৫৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৩.৯ মিলিগ্রাম লৌহ। আমড়ার খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালোরি। খনিজ পদার্থ বা মিনারেলসের পরিমাণ ০.৬ গ্রাম।

মেডিকেলবিডি/আরএম/ ৭ জুন, ২০২১

Read More

সুস্থ দীর্ঘায়ু পেতে করণীয়

সব মানুষই চায় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন।এর জন্য যে কাজ গুলো করতে হয় তা করতে গিয়ে অনেকেই হোঁচট খান। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই তা আমরা করতে পারি না বা আমাদের করা হয়ে উঠে না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই এবং অনেক কারণেই আমাদের দৈহিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মক্ষিন ও আমাদের হতে হয়।

বর্তমান শতাব্দীতে উন্নত ঔষধ, উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও ব্যাক্তি সতর্কতার ফলে বিশ্বের প্রথম সাড়ির দেশ গুলুতে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধুমাত্র দীর্ঘ জীবন নয় সুস্থ ও সুন্দর জীবন পাওয়ার জন্য কতগুলো নিয়ম মেনে চলা এবং অভ্যাস পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই কোন নিয়ম বা অভ্যাস গুলো অনুসরণের করলে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায়:

  • শুরুতে ১০ মিনিট হাঁটুন। ২-৩ দিন পর সময় বৃদ্ধি করুন। এভাবে ১০-১৫-২৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিটে উন্নীত করুন।
  • সবুজ শাকসবজি, দেশীয় ও মৌসুমি ফলমূল প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।
  • লাল মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস ও বিভিন্ন ধরনের মাছ খেতে হবে।
  • সপ্তাহে অন্তত ১ দিন নিরামিষ খেতে পারেন।
  • ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিায়াজানত খাবার থেকে এড়িয়ে চলুন।
  • যতদূর সম্ভব সোডিয়াম ও অন্যান্য লবণ এড়িয়ে চলুন।
  • রান্নার ক্ষেত্রে পরিমিত লবণ ব্যবহার করতে হবে।
  • খাবার সময় আলগা লবণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

  • খাবার সংরক্ষণে লবণ ব্যবহার না করে লেবুর রস, কাঁচা রসুন, ভিনেগার ও সমলা ব্যবহার করুন।
  • যেকোনো খাবার কেনার ক্ষেত্রে পণ্যের প্যাকেটে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে অপেক্ষাকৃত কম সোডিয়ামসমৃদ্ধ খাবার কেনার চেষ্টা করতে হবে।
  • কায়িক পরিশ্রম করতে হবে, নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস করুন।
  • নিয়মিত হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে।
  • নিকটবর্তী গন্তব্যে বা অফিসে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • দিনে অন্তত ১০ মিনিট সাধারণ ব্যায়াম করা উচিত।
  • লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।
  • ধুমপান ও মদ্যপান বা অ্যালকোহল একমদই গ্রহণ করা যাবে না।
  • দিনে ঘুমাবেন না, রাতে তারাতারি শুয়ে পরুন।
  • নুন্যতম ৬-৮ ঘন্টা দৈনিক ঘুমের প্রয়োজন।
  • মোবাইল, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ইলেট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন।
  • যেকোনো পরিস্থিতিতে সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখুন।
  • আত্বীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

  • কথাবর্তায় কর্কশ হবেন না।
  • রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
  • অহংকার করবেন না।
  • লোকদের সাথে ধীরস্থির হয়ে শান্তভাবে কথা বলুন।
  • উচ্চস্বরে কথা বলবেন না।
  • পিতামাতার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করুন।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭, (শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে)

সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১ অথবা ০১৯৯-৭৭০২০০১

আরএম/৬ জুন, ২০২১

Read More

কারপাল টানেল সিনড্রোম কী, কারণ ও করণীয়

কারপাল টানেল সিনড্রোম এক প্রকারের কব্জির প্রদাহজনিত রোগ। কারপাল টানেল অর্থাৎ কব্জির হাড়গুলির ও সংশ্লিষ্ট কব্জি ভাজকরার পেশীগুলির সংযোগকারী টেন্ডন সমূহের মধ্যবর্তী সুড়ঙ্গে মিডিয়ান স্নায়ুর নিষ্পেষণ/পীড়ন জনিত কারণে এই প্রদাহ হয়ে থাকে। সাধারণত কব্জির উপর ক্রমাগত চাপ পড়ার ফলে এই রোগ হয়ে থাকে। যেমন – অনেকক্ষণ ধরে টাইপ করা, কম্পিউটারের মাউসের অতিরিক্ত ব্যবহার ইত্যাদি। সাধারণত এই ধরনের কাজে এ রোগ হয়ে থাকে।

কারপাল টানেল সিনড্রোম কেন হয়?

কারপাল টানেল সিনড্রোম অনেক কারণেই হয়ে হতে পারে। যে হাড়গুলো একত্র হয়ে আমাদের কব্জি গঠন করে, সেই হাড়গুলোকে মেডিকেলের পরিভাষায় কারপাল বোনস বলা হয়। কব্জিতে সেই হাড়গুলোর মধ্যে একটি ছোট্ট টানেল রয়েছে, যার নাম কারপাল টানেল। এই টানেলের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন শিরা ও স্নায়ু হাতে প্রবেশ করে। এর অন্যতম হলো মিডিয়ান নার্ভ। কোনো কারণে এ টানেলের মধ্যকার নাভর্টি চাপ খেলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া ফুলে যাওয়া, পানি জমা ইত্যাদি কারণেও এমন হতে পারে। স্থূলতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও এসএলই ইত্যাদি রোগ এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করার কারণে টানেলের ওপর চাপ পড়ে। যেমন— সেলাই করা, টাইপ করা, মাউস ব্যবহার, লেখালেখি করা, টেনিস খেলা, গলফ খেলা, গিটার বাজানো বা বেহালা বাজানো ইত্যাদি। এছাড়াও-

  • দীর্ঘ সময় ধরে বারংবার একই কাজ (রিপিটিটিভ স্ট্রেস ইনজুরি)
  • হাত বা কব্জি চাপ দিয়ে কাজ করা
  • কব্জি বিশৃঙ্খল ভাবে রাখা
  • কম্পন

হাতের কব্জি থেকে হাতের তালু ও আঙুলগুলো অবশ হয়ে আসা, ঝিনঝিন করা, আবার কখনো ব্যথা হওয়া বা ফুলে যাওয়া—এই সমস্যাগুলো সাধারণত যে রোগের কারণে দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো কারপাল টানেল সিনড্রোম।

কারপাল টানেল সিনড্রোম এর লক্ষণ:-

  • বেশি সময় কাজ করতে না পারা
  • হাতের পেশীতে খুব ঘন ঘন ব্যথা হওয়া
  • হাত অসাড় মনে হওয়া
  • হাতে শক্তি না পাওয়া।
  • হাতে ব্যথা এবং জ্বালা অনুভব করা
  • আপনার হাতের আঙুলে অসাড়তা এবং ব্যথা
  • হাতের পেশীগুলিতে দুর্বলতা
  • রাতে কব্জি ব্যথা যা ঘুমের ব্য়াঘাত ঘটায়
  • কব্জিসন্ধিতে ব্যাথা বা অস্বস্তি লাগা
  • ঝিনঝিন করা

কারপাল টানেল সিনড্রোমের ঝুঁকি:-

  • মহিলাদের এই সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি থাকে পুরুষদের তুলনায়।
  • এই অবস্থাটি সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে দেখা যায়।
  • লাইফস্টাইল এবং অভ্যাস যেমন বেশি লবণ গ্রহণ, ধূমপান, হাই বডি মাস ইনডেক্স (BMI) কারপাল টানেল সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং বাতের কারণে বেশি হতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে বারবার একই কাজ করার কারণেও এর ঝুঁকি বাড়ে।চিকিৎসা

চিকিৎসা:

কারপাল টানেল সিনড্রোম থেকে কিছু উপায়ে মুক্ত হতে পারেন। স্নায়ুর ব্যথা কমানোর ওষুধ ও পাশাপাশি রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা এবং হাতের বিশ্রামের জন্য স্ল্পিন্ট ব্যবহার খুবই কার্যকরী । এই রোগে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা খুবই উপকারী এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে সুস্থ হওয়া সম্ভব। ওষুধ ও রিহেব-ফিজিও চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময় না হলে কখনো কখনো সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। যদি কাজ করার সময় আপনার হাতগুলি বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে তবে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য বিরতি নিন এবং আপনার হাত প্রসারিত করুন, হাতের ভঙ্গিতে মনোযোগ দিন পরিবর্তণ করুন। এগুলি ছাড়াও এমন কিছু ক্রিয়াকলাপ এড়িয়ে চলুন যা আপনার কব্জিকে এই সিন্ড্রোমের দিকে ঠেলে দেয়।

পরামর্শ

পরামর্শ গুলো সব সময় মনে রাখবেন যে যাঁরা টেবিলে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, লেখেন কিংবা কম্পিউটারে টাইপ করেন, তাঁরা প্রতি ৩০ মিনিট পরপর সামান্য বিরতি নিতে পারেন। হাতের বাহু যেন কাজের সময় বিশ্রামে থাকে। টেবিল ও হাতের ব্যবধান ঠিক করে নিন, যাতে হাত টেবিলের সমান্তরালে থাকে। মাঝেমধ্যে টাইপ করা বা লেখার বিরতিতে রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞের নির্দেশিত হাতের ব্যায়ামগুলো করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কারপাল টানেল সিন্ড্রোম সময়ের সাথে সাথে আরো খারাপ দিকে যায়, স্নায়ুর ক্ষতি করে। মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যার প্রবণতা বেশি হয়। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থায় প্রায়ই এই সমস্যা প্রকট আকারে দেখা দেয়। কারপাল টানেল সিনড্রোমের কারণ এটি মিডিয়ান স্নায়ুতে চাপের কারণে ঘটে এবং অতিরিক্ত প্রদাহের কারণে ফুলে যায়।

  • হালকাভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করুন
  • হাত বা কব্জিকে নিরপেক্ষ রাখুন
  • একটু পর পর হাত পরিবর্তন করুন
  • একটু পর পর হাতকে প্রসারিত করা
  • বিরতি নিন
  • দেহ বিন্যাস ঠিক রাখুন
  • উষ্ণ থাকুন।
  • কীবোর্ড ও মাউস সঠিক ভাবে ব্যবহার করুন।
  • একজন পেশাগত রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ দেখান।

কারপাল টানেল সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সাধারণ কারণ যেমন:-

  • বাত ব্যথা জনিত কারণ।
  • উচ্চ রক্তচাপ।
  • থাইরয়েডের সমস্যা।
  • ডায়াবেটিস।
  • গর্ভকালীন ও মেনোপজের পর নারীদের এই সমস্যা বেশি হতে পারে।
  • কব্জিতে কোনো সমস্যা।
  • অটোইমিউন ডিসঅর্ডারস (আর্থ্রাইটিস)।
  • দীর্ঘ সময় ধরে বারবার একই কাজ।
  • চাপ দিয়ে কাজ করা।
  • কী বোর্ড বা মাউস ব্যবহার করার সময় কব্জি বিশৃঙ্খলভাবে রাখা।
  • কারো কারো ক্ষেত্রে এটি বংশগত হতে পারে।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭, (শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে)

সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১ অথবা ০১৯৯-৭৭০২০০১

আরএম/ ৬ জুন, ২০২১

Read More

পেঁপের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আজ আপনাদের জানাবো পুষ্টি ও ঔষধিগুণে সেরা একটি ফলের নাম ও উপকারীতা। যা আমরা হয়তো জেনে খায় বা না জেনে অথবা এর স্বাদে। আর এই ফলটি হচ্ছে পেঁপে। সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে একটি হল পেঁপে। পুষ্টিগুণের জন্যই সবাই এই ফলটি বেশি পছন্দ করেন। পেঁপেতে আছে ভিটামিন এ, সি, কে, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও প্রোটিন। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণ ফাইবারও রয়েছে। আর পেঁপেতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। সেই সঙ্গে স্বাদেও মিষ্টি, যে কারণে সুগার রোগীদের প্রতিদিন একবাটি করে পাকা পেঁপে খেতে দেওয়া হয়।

এছাড়াও অনেকে হজমের সমস্যায় ভোগেন। এদের প্রতিদিন পেট পরিষ্কার হয় না, ফলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বেরুতে পারে না। তাই তাদের প্রতিদিন পাকা পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

পেঁপে একটি সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। পুষ্টিগুন বিবেচনায় পেঁপে অনেক ফলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এতে রয়েছে অনেক রোগের নিরাময় ক্ষমতা। পেঁপে কাঁচা ও পাকা দুই ভাবেই খাওয়া যায়। কাঁচা পেঁপে সালাদে ও রান্নায় এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে খাওয়া যায়। পেঁপে আমিষকে হজম করে সহজেই এবং পরিপাক তন্ত্রকে পরিষ্কার করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক পেঁপের পুষ্টি ও ঔষুধি গুণ-

পেঁপের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • হার্টের সমস্যায় উপকারী।
  • পেঁপে মুখের রুচি ফেরায়। সেই সঙ্গে খিদেও বাড়ায়।
  • পেঁপে পেট পরিষ্কার করে।
  • যাদের অর্শ্ব রোগ আছে তাদের ক্ষেত্রেও খুব ভালো কাজ করে পেঁপে।
  • কোলেস্টেরল কমায়।
  • ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
  • চুলের জন্যও পেঁপে খুব উপকারী।
  • পেঁপে প্রতিদিন মুখে মাখলে মুখের লাবণ্য বজায় থাকে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকরী।
  • ডেঙ্গি প্রতিরোধে পেঁপের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য!
  • কাইমোপ্যাপিন নামের এনজাইম থাকায় পেঁপে অস্টিওআথ্রাইটিস ও রিউমেটয়েড রোগ সারায়।
  • বার্ধক্যে দৃষ্টিশক্তিহীনতা দূর করে।
  • পেঁপেতে থাকা আঁশ অ্যাসিডিটি বা অম্লতা, পাইলস ও ডায়রিয়া দূর করতে পারে।
  • কাঁচা পেঁপে দেহের সঠিক রক্ত সরবরাহে কাজ করে।
  • নিয়মিত পেঁপে খেলে উচ্চ রক্ত চাপের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • পেঁপে প্রোটিন চর্বি ও কার্বোহাইড্রেট ভাঙতে সাহায্য করে।
  • কাঁচা পেঁপে বা এর জুস রক্তে চিনির পরিমাণ কমায়। আর এটি শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়ায়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • হজমশক্তি বাড়ায়।
  • ভিটামিন বি এর অভাব পূরন করে।
  • হাড় মজবুত করে।
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা কমে যায়।
  • দাঁতের যন্ত্রণার অব্যর্থ ওষুধ হল পেঁপে।
  • অন্ত্রের কৃমি রোধ করে পেঁপে।
  • ব্রণের দাগ কমিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

পেঁপের পুষ্টিমান:

‘১০০ গ্রাম পেঁপেতে শর্করা থাকে ৭.২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩২ কিলোক্যালরি, ভিটামিন সি ৫৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬.০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম এবং ফ্যাট মাত্র ০.১ গ্রাম। এই উপাদানগুলো শুধু শরীরের চাহিদাই মেটায় না, রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়।’ প্রচুর পরিমাণ আঁশ, ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে পেঁপেতে। এই উপাদানগুলো রক্তনালিতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়। তাই হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং উচ্চরক্তচাপ এড়াতে পেঁপে খেতে পারেন নিয়ম করে।

আরএম/ ৬ জুন, ২০২১

Read More

লটকনের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

লটকনের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

ছোট হলেও অবহেলা করার মতো নয়। লটকন একটি পুষ্টিকর ফল। “লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। দিনে ২-৩ টি লটকন খেলে শরীরের ভিটামিন সি’র চাহিদা পূরণ হয়। এতে ভিটামিন ও খাদ্যশক্তিসহ নানারকম খনিজ উপাদান রয়েছে। রয়েছে নানা রকম পুষ্টি উপাদান যা শরীরকে সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নানান ফলের ভিড়ে লটকনের গুণের কথা অনেকেই জানে না। এটি একটি পুষ্টিকর ফল। দেশি ফল হিসেবে দেখতে ছোট হলেও এর রয়েছে পুষ্টিগুণ সহ অনেক ঔষধিগুণ। ফল হিসেবেই ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। অম্লমধুর ফল লটকন। মাঝারি আকারের চির সবুজ বৃক্ষ। ফল গোলাকার ক্যাপসুল পাকলে হলুদ বর্ণের হয়। ফলের খোসা ছড়ালে ৩/৪ টি বীজ পাওয়া যায়। লটকনের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ নিচে দেওয়া হলো-

লটকনের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • হাড় গঠনে সহায়তা করে।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • গরমে তৃষ্ণা মিটায়।
  • খনিজ উপাদানে ভরপুর।
  • কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
  • ‘গনোরিয়া’ রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে লটকনের বীজ।
  • ডায়রিয়া দূর করতে লটকন গাছের পাতার গুঁড়া বেশ কাজে দেয়।
  • লটকনের পাতা ও শিকড় খেলে পেটের নানা অসুখ ও জ্বর ভালো হয়ে যায়।
  • ঠাণ্ডা-কাশি সারাতে বেশ কার্যকর।
  • দাঁতের নানা ধরনের সমস্যার সমস্যার সমাধান করে থাকে লটকন।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বেশ উপকারি।
  • শরীরের রক্তশূন্যতা পূরণ করে।
  • লটকনে থাকা ফাইবার হজমক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন সি ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে।
  • চর্মরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • লটকন গা গোলানো ও বমি বমিভাব দূর করতে পারে।
  • মানসিক চাপ কমে।
  • মুখের স্বাদ বৃদ্ধি পায় এবং খাবারের রুচি বাড়ে।

লটকনের পুষ্টিমান:

প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্রোমিয়াম থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৫.৩৪ মি.গ্রা আয়রন থাকে। প্রতি ১০ গ্রাম লটকনে ১০.০৪ মি.গ্রা ভিটামিন বি ওয়ান ও প্রতি ১০০ গ্রামে ০.২০ মি.গ্রা ভিটামিন বি টু পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ১.৪২ গ্রাম প্রোটিন ও ০.৪৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে।

আরএম/ ৬ জুন, ২০২১

Read More

যেসকল রোগের উপসর্গই হল পেট ব্যথা

পেট ব্যথার কারণঃ

বদহজম

গ্যাসট্রাইটিস

গ্যাসট্রোএনটেরেটিস

ইরিট্যাবল বাউয়েল সিন্ড্রোম

পেপটিক আলসার

পাকস্থলী ক্যান্সার

এপেন্ডিসাইটিস

প্যানক্রিয়াটাইসিস

কারসিনোমা অব প্যানক্রিয়াস

ইনটেসটিনাল অবসট্রাকশন

পেরিটোনাইটিস

আলসারেটিভ কোলাইটিস

ক্রোনস ডিসিস

মেসেনটেরিক ইশকেমিয়া

এ্যায়োরটিক ডিসেকশন

ডাইভারটিকুলোসিস

কনসটিপেশন

হারনিয়া

সিলিয়াক ডিসিস

হায়াটাল হারনিয়া

ব্যান্ড এ্যাডহেশন

গ্যাসট্রো ইওসোফেজিয়াল রিফলাকস রোগ

হেপাটাইটিস

ফুড পয়জনিং

জিয়ারডিয়াসিস (কৃমি)

ব্যাকটেরিয়াল গ্যাসট্রোএনটেরেটিস

কোলিসিসটাইটিস

কোলিলিথিয়াসিস

কোলিডোকোলিসিয়াসিস

এইচ পাইলোরি ইনফেকশন

লিম্ফোইডিমা

ইমপ্যাকটেট বাওয়েল

টকসিক মেগাকোলন

ইনটুসাসেপসন

সিকেল সেল এনিমিয়া

ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস

সিরোসিস অব লিভার

অ্যাবডোমিনালএওরটিক অ্যানোরিসম

নেকরোটাইজিং ভাসকুলাইটিস

ইডিওপ্যাথিক অটোইমিওনো হিমোলাইটিক এনিমিয়া

স্স্পিনোমেগালি

লিভার ক্যান্সার

কিডনি জনিত সমস্যাঃ

কিডনিতে পাথর

পাইলোনেফরাইটিস

হাইড্রোনেফ্রাইটিস

পলিসিসটিক কিডনি ডিসিস

অবসট্রাকটিভ ইউরোপ্যাথি

ব্লাডার ক্যান্সার

ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার

উইমস টিউমার (বাচ্চাদের হয়)

প্রাকটাইটিস

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Read More

আধুনিক চিকিৎসা সেবার অন্যতম নাম রিহেব-ফিজিও

রিহেব-ফিজিও

রিহেব-ফিজিও থেরাপির সুবিধা সমূহঃ

ব্যথা-বেদনা নিরাময়ে এখন প্রমাণিত চিকিৎসা ব্যাবস্থা।

শরীরে দ্রুত ইনফ্লামেশন এর প্রদাহ হ্রাস করে।

পেশী ও ত্বকের ইনজুরি সারাতে রিহেব-ফিজিও দারুনভাবে কার্যকর।

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিরাময়, নন-ইনভেসিভ চিকিৎসা (সম্পূর্ণকাটা-ছেড়ামুক্ত), পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিহীন আধুনিক চিকিৎসা ব্যাবস্থা।

সর্বোপরি এটি একটি গতানুগতিক, কার্যকরী এবং প্রচলিত চিকিৎসা ব্যাবস্থা।

যে সকল রোগে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা শতভাগ কার্যকরঃ

  • কোমর ব্যথা
  • ঘাড় ব্যথা
  • মাজা ব্যথা
  • হাঁটু ব্যথা
  • মাংসপেশির ব্যথা
  • অষ্টিও আর্থাইটিস
  • রিউমাটয়েড আর্থাইটিস
  • অষ্টিও পোরোসিস
  • এঙ্কাইলজিং স্পন্ডালাইটিস
  • একেলিস টেন্ডন রিপেয়ার
  • ACL টেন্ডন পুনর্গঠন
  • মেরুদণ্ডের ডিস্ক হানিয়া
  • ডিস্ক প্রলাপ্স
  • ডিস্ক কমপ্রেশন
  • ল্যাম্বো-সেক্রাল পেইন
  • ক্যাল্কেনিয়ান স্পার
  • পায়ের তলা ব্যথা
  • প্লান্টার ফ্যাসাইটিস
  • ফ্রোজেন সোল্ডার
  • টেনিস এলবো
  • রিষ্ট পেইন
  • কার্পাল টানেল সিন্ড্রোম
  • সেরিব্রাল পলসি
  • মায়েস্থেনিয়া গ্রেভিস
  • ড্রপ জ
  • স্ট্রোক পরবর্তী চিকিৎসা
  • হেমিপ্যারালাইসিস
  • মায়েলজিয়া
  • আর্থালজিয়া
  • ডিসাবিলিটি
  • মাস্কুলার ডিসট্রফি

তাছাড়া আরও অনেক রোগ।

শিশুদেরঃ

  • গ্রোথ পেইন
  • কোগনেটিভ ও মোটর ডেভলাপমেন্ট
  • বিভিন্ন নিউরোলজিক্যাল সমস্যা
  • ফ্রেকচার, স্প্রেইন
  • হাইপারমবিলিটি
  • স্পোর্টস ইনজুরি

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Read More