Welcome to, Dhaka Pain Physiotherapy & Rehabilitation Center (DPRC) Ltd.

Opening Hours : Always Open
  Hotline : 09 666 77 44 11

All posts by shafiullah

পেশিতে টান লাগলে কি করবে

পেশিতে টান লাগলে কি করবেন:
পায়ের পেছনের দিকের মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথার কারণে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই আছে। প্রচলিত ভাষায় বলতে গেলে এ অবস্থাকে বলা যায় রগে টান খাওয়া। হাঁটু আর গোড়ালির মাঝের পেশি (কাফ মাসল) প্রচণ্ডভাবে টান ধরে থাকার অনুভূতি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যার হয়েছে কেবল সে-ই বোঝে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই আক্রান্ত পেশি টানটান করার চেষ্টা করুন। পা সোজা টানটান রেখে বসা অবস্থায় পায়ের আঙুলগুলো নিজের দিকে আনতে চেষ্টা করুন। এর ফলে পায়ের পেশি টানটান হবে। তীব্র ব্যথায় পা নাড়াতে না পারলে পায়ের আঙুলগুলো হাতের সাহায্যে নিজের দিকে টেনে আনতে চেষ্টা করুন। ধীরে ধীরে কয়েকবার এভাবে চেষ্টা করার পরও আরাম না পেলে কুসুম গরম পানি কাজে লাগাতে পারেন। উষ্ণতা পেলে পায়ের ব্যথার তীব্রতা কমে আসতে থাকে। এ ছাড়া আক্রান্ত স্থানে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করলেও উপকার পেতে পারেন।
কারণ :
শরীরের যেকোনো একটি মাংসপেশি অনেকক্ষণ ধরে ব্যবহৃত হলে, আকস্মিক নড়াচড়া, ভারি কিছু উঠানোর সময় বেকায়দায় কোনো পেশিতে টান পড়া ইত্যাদি কারণে মাংসপেশি চাপ পড়ে। দুশ্চিন্তা থেকেও মাংসপেশিতে টান পড়তে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের যেমন পানি কম খাওয়া, শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের অভাব ইত্যাদি কারণেও মাংসপেশিতে টান পড়তে পারে।
শরীরের কোন মাংসপেশিতে টান পড়বে তা নির্ভর করে একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপর। যারা দীর্ঘসময় ধরে কম্পিউটারে কিংবা চেয়ারে বসে কাজ করেন কিংবা লম্বা সময় যানবাহন চালান, তাদের কাঁধ, ঘাড়, পিঠের মাংসপেশিতে টান পড়ার আশঙ্কা বেশি। খেলোয়াড়দের হাত ও পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি থাকে।
মাংসপেশিতে টান পড়ার দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সম্পর্কে ডা. মোঃ সফিউল্যাহ প্রধান বলেন, “পেশির টান পুরোপুরি উপশম না হলে ওই পেশিতে ‘নডিউল’ তৈরি হতে পারে। মাংসপেশির একটি অংশ স্থায়ীভাবে সংকুচিত হয়ে যাওয়াকে নডিউল বলা হয়। এই নডিউলের কারণে হাড় ও পেশির মধ্যকার সমন্বয় নষ্ট হয়। ফলে হাড়ের জোড়ায় ব্যথা হতে পারে। বয়স বেশি হলে আর্থ্রাইটিসের জটিলতা দেখা দিতে পারে।”
মাংসপেশিতে টান লাগা বন্ধে যা করবেনঃ
১. দিনের বেলায় যখন পায়ে কোনো ব্যথা থাকে না, তখন কাফ মাসল টানটান করার ব্যায়াম অভ্যাস করুন। সারা দিনে দুই থেকে তিন বার, প্রতি বেলায় পাঁচ মিনিট সময় দিন এই ব্যায়ামে। শেষবার ব্যায়ামটি হতে পারে শোয়ার আগে, তবে খুব অল্প সময়ের জন্য। কিছুদিন পর সারা দিনে এক থেকে দুই বার সময় দিলেই সমস্যা দূরে থাকে।
২. ভালো মানের জুতা ব্যবহার করুন, যাতে হাঁটার সময় পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। শোয়ার আগে কিছুটা সময় হালকা হাঁটাচলা করুন, কিংবা স্থির সাইকেলে ব্যায়াম করতে পারেন কয়েক মিনিট।
৩. শোয়ার সময় পায়ের নীচে ভারী কম্বল বা ভারী চাদর দিয়ে ঘুমাতে পারেন। মানে পায়ের নিচে ব্যালেন্স করে একটু উচুঁ করে এই কম্বল বা চাদর ব্যবহার করতে পারেন। এর কারণে আপনার পা এবং শরীরের মধ্যে একটা ব্যালেন্স হবে। যার ফলে কারো পায়ে যদি পানি থাকে বা মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা থাকে তা কমে যাবে। তবে প্রতিদিন পান করতে হবে পর্যাপ্ত পানি।
Read More

হাঁটুর অষ্টিও আর্থ্রাইটিস কারণ লক্ষণ ও উপসর্গ

হাঁটুর অষ্টিও আরথ্রাইটিস কারণ কী?
হাঁটুর অষ্টিও আর্থ্রাইটিস বয়সজনিত ক্ষয়রোগ হিসাবে পরিচিত। যদিও বয়স ছাড়াও বিভিন্ন কারণে হাঁটুর অষ্টিও আর্থরাইটিস হতে পারে। যেমন –
👉 প্রধান কারন হল বয়স।
👉 ওজন বেশী হলে হাঁটুর ওপর ধকল বেশী হয়।
👉 হাঁটুর গাঁটে আঘাত লাগলে হাঁটুর ক্ষতি হতে পারে।
👉 ভারী জিনিস তোলা, হাঁটু ভাঁজ করা, সিঁড়ি দিয়ে ক্রমাগত ওঠানামা করা, ফুটবল খেলা প্রভৃতি এসবেও হাঁটুর ওপর ধকল হয়।
👉 এছাড়া কার্টিলেজের ক্ষয়ের জন্য বংশগত কারণও থাকে।
👉 কম বয়সের হাঁটুর সমস্যা যেমন লিগামেন্ট বা কার্টিলেজ ছিঁড়ে যাওয়া, অথবা রিউমাটএড আরথ্রাইটিস বা স্পনডাইলো আরথ্রাইটিস থাকলে এবং তার চিকিৎসা ঠিক মত না হলে, অষ্টিও আর্থরাইটিস কম বয়সেই শুরু হতে পারে।
হাঁটুর অষ্টিও আরথ্রাইটিস এর লক্ষণ ও উপসর্গ গুলো কী?
👉 হাঁটুর অষ্টিও আরথ্রাইটিস এর প্রধান লক্ষণ হল হাঁটুর ব্যথা।
👉 সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা বা পরিশ্রমের পর হাঁটুর ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
👉 সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা অনেকক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর হাঁটু আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া।
👉 চলাফেরা করার সময় হাঁটুর গাঁটে শব্দ হওয়া।
👉 হাঁটু ফুলে যাওয়া।
👉 উরুর মাংসপেশীর ক্ষয় হয়ে যাওয়া।
👉 হাঁটু ভাঁজ করার সময় ব্যথা হয়।
👉 ধীরে ধীরে সামান্য নড়াচড়াতেও অসহ্য ব্যথা ও অস্বস্তি হয়। এবং হাঁটু নড়ানো যায় না।
👉 হাঁটুর গাঁট আড়ষ্ট হয়ে যায়। বসে থাকা অবস্থাতেও ব্যথার অনুভুতি।
Read More

আনারসের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আনারসের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

এক প্রকারের গুচ্ছফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে। এসব অপরিহার্য উপাদান আমাদের দেহের পুষ্টির অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করতেও আনারসের জুড়ি নেই। আনারসে ব্রোমেলিন নামক এনজাইম থাকে যা হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

আনারসের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা ও কাশি প্রতিরোধ করে থাকে।
  • ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বককে কুঁচকে যাওয়া থেকে বাঁচায়। দেহের তৈলাক্ত ত্বক, ব্রণসহ সব রূপলাবণ্যে আনারসের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
  • হাড়ের সমস্যাজনিত রোগ প্রতিরোধ
  • ক্রিমিনাশক হিসেবে
  • ক্যান্সার প্রতিরোধী:
  • পুষ্টির অভাব দূর করে
  • দাঁত ও মাড়ি সুরক্ষায় কাজ করে।
  • রক্ত জমাটে বাধা দেয়
  • পুষ্টির অভাব দূর
  • ভাইরাসজনিত রোগ থেকে বাঁচায়
  • হজমশক্তি বাড়ায়
  • চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়
  • সুস্থ থাকে আমাদের চোখ।
  • ওজন কমায়
  • ক্যানসার এবং হৃদরোগের উপকার করে
  • হাড়ের গঠন এবং হাড়কে করে তোলে মজবুত।

আনারসের পুষ্টিমান:

প্রতি ১০০ গ্রামে আনারসে পাওয়া যায় ৫০ কিলোক্যালরি শক্তি। এতে ভিটামিন-এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। ১০০ গ্রাম আনারসে ০.৬ ভাগ প্রোটিন, ০.১২ গ্রাম সহজপাচ্য ফ্যাট, ০.৫ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১৩.১২ গ্রাম শর্করা, ০.১১ গ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৪ মি. গ্রাম ভিটামিন-২, ভিটামিন- সি ৪৭.৮ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ০.০২ গ্রাম, আঁশ ১.৪ গ্রাম এবং ১.২ মিলি গ্রাম লৌহ রয়েছে।

আনারসের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া:

  • আনারসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা থাকলেও এটি সবার জন্য ঠিক স্যুট করে না। অনেকেরই আনারস এলার্জির সমস্যা যেমন বিভিন্ন ধরনের চুলকানি, ফুস্কুরি ইত্যাদি হতে পারে।
  • আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক চিনি যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। আনারসের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি আমাদের দেহে রক্তের চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা আনারস বেশি না খেয়ে সপ্তাহে ২ দিন খেতে পারেন।
  • আনারস খাওয়ার ফলে অনেক নারী ও পুরুষের দেহে অ্যালার্জী দেখা দিতে পারে। আনারস খাওয়ার ফলে অ্যালার্জীর উপসর্গ হল ঠোঁট ফুলে যাওয়া ও গলায় সুরসুরি বোধ হওয়া।তাই আনারস খাওয়ার আগে তা কেটে লবন পানি দিয়ে ধুয়ে নেয়া উচিত। এভাবে ধুয়ে নিয়ে খেলে কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা থাকেনা।
  • আনারসের কারণে নারীদের গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থায় থাকলে নারীদের আনারস খেতে বারণ করা হয়। তাছাড়া গর্ভাবস্থার পরে চাইলে আনারস খেতে পারেন কিন্তু শরীরের অবস্থা বুঝে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
  • আনারসে আছে অনেক বেশি পরিমানে প্রাকৃতিক চিনি। আনারসের ২ টি চিনি উপাদান সুক্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু দেহের ক্ষতি, এটি খাওয়ার উপর নির্ভর করে। এবং আনারসের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি আমাদের দেহে রক্তের চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই আনারস বেশি না খেয়ে সপ্তাহে ২ দিন খেতে পারেন।

  • আনারস একটি এসিডিক ফল। তাই খালি পেটে ফলটি খেলে পেটে প্রচন্ড ব্যথার তৈরী হতে পারে। আনারস আর দুধ এক সাথে খাওয়া যায় না, এটি একটি কুসংষ্কার। এখন পর্যন্ত আনারস এবং দুধের মাঝে এমন কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া খুঁজে পাওয়া যায়নি যার ফলে এদেরকে এক সাথে খেলে সেটা মানুষের জীবনহানি করবে। বর্তমানে অনেক খাবারেই দুধ ও আনারস একসাথে মেশানো হয় এবং সারা বিশ্বেই তা খাওয়া হয়। কোন গ্যাস্ট্রিকের রোগী যদি খালিপেটে আনারসের সাথে দুধ খায় তাহলে তাঁর পেটে প্রচন্ড ব্যথার “ফুড ট্যাবু” এর উদ্ভব হতে পারে।
  • রক্ত তরল করার জন্য যে ওষুধ বানানো হয় তাতে আনারস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ফল দেহে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াতে বাঁধা প্রদান করে থাকে। তাই যাদের আনারস খেলে এ সকল সমস্যায় ভুগেন তারা অবশ্যই আনারস থেকে দূরে থাকবেন।
  • আনারসে আছে ব্রমিলেইন যা দিয়ে ওষুধ বানানো হয়ে থাকে এবং কোন রোগীর প্রয়োজন পরলে তাকে তা দেয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া আপনি যদি কোন কারণে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিকনভালসেন্ট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আনারস খেতে ডাক্তাররা নিষেধ করে থাকেন। কারণ এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
  • অনেকেই কাঁচা আনারস ব্যবহার করে থাকেন জুস বানানোর জন্য কিন্তু এটি দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং খুব বিষাক্ত। এবং মাঝে মাঝে কাঁচা আনারস খাওয়ার কারণে বমির প্রবণতা দেখা দেয়।
  • কাঁচা আনারসে আছে অনেক বেশি পরিমানে এসিডিটি যা আমদের মুখের ভিতর ও গলায় শ্লেষ্মা তৈরি করে। এবং ফলটি খাওয়ার পর মাঝে মাঝে অনেকের পেটে ব্যথাও হতে পারে।

পুষ্টিসাধন সহ দেহকে সুস্থ রাখতে আনারস একটি অতুলনীয় ও কার্যকরী ফল। এটি দামেও সস্তা এবং সহজলভ্য। এছাড়া এর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে কোন একটি ফল থাকলে মন্দ হয়না। তাই চাইলেই প্রতিদিনের খাবারে আনারস রাখা যেতেই পারে।

আরএম/ ২৩ জুন, ২০২১

Read More

বেলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

বেলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

গরমে ক্লান্তির পর চাই এমন কিছু, যা ঝটপট শরীর ঠান্ডা করতে পারে। এক গ্লাস ঠান্ডা বেলের পানা সারা দিনের ক্লান্তি মুছে শরীরকে চাঙা করে তুলতে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে অবসাদ ঘুচিয়ে দিতেও কিন্তু বেশ কার্যকর। বাজারে এখন বেল পাবেন। রোদ থেকে এসে তৃষ্ণা মেটাতে শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। শরীরের জল কমে গেলে বেলের শরবতের তুলনা হয় না। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি অনন্য।

দেহে বিটা ক্যারোটিন, প্রোটিন, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি এবং বি 2, থায়ামিন, নিয়াসিন, ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ফাইবার জাতীয় পুষ্টি পাওয়া যায়। এই শরবত পান করলে বদহজম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি আলগা গতি নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরে রক্ত বাড়ায়। বেল একটি অতি উপকরি ফল শরীরের জন্য। চলুন জেনে নেই বেলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ –

বেলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণঃ

  • কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে
  • বেল পেট পরিস্কার করে।
  • আলসার উপশমে খুবই কার্যকরী।
  • আর্থ্রারাইটিস কমাতে দারুন কার্যকরি বেল।
  • এনার্জি বাড়াতে বেলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • ব্লাড প্রেসার কমায় বেল।
  • ক্যান্সারেও খুব উপকারি বেল।
  • কাঁচা বেল ডায়েরিয়ার জন্য একটি অব্যর্থ ওষুধ।
  • পাকা বেলে আছে অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল উপাদান, যা যক্ষ্মা কমাতে সাহায্য করে।
  • দাঁতের স্কার্ভি কমায়।
  • ত্বক ভাল রাখে।
  • বেল রক্ত শুদ্ধ করতে খুব ভালো কাজ দেয়।
  • লিভারের শক্তি বাড়ায় ও লিভার ভালো।
  • কিডনি ভালো রাখতে বেলের গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রয়েছে।
  • ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা প্রতিরোধে।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে।

বেলের পুষ্টিগুণ:

বেলের পুষ্টিগুণ অন্যান্য ফলের চেয়ে অত্যন্ত বেশি। কাঁচা কিংবা পাকা দুইভাবেই বেল খাওয়া যায়। বেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়ামের মত মূল্যবান পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম বেলের শাঁসে পানির পরিমাণ ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম, প্রোটিন ১.৮-২.৬২ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ০.২-০.৩৯ গ্রাম, শর্করা ২৮.১১- ৩১.৮ গ্রাম, ক্যারোটিন ৫৫ মিলি গ্রাম, থায়ামিন ০.১৩ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লেবীন ১.১৯ মিলিগ্রাম, এসকরবিক এসিড ৮-৬০ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম ও টারটারিক এসিড ২.১১ মিলিগ্রাম।

আরএম/ ২১ জুন, ২০২১

Read More

তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

 

গ্রীষ্মের অন্যতম একটি আরামদায়ক ফল হচ্ছে কাঁচা তাল অর্থাৎ তালের শাঁস। এশিয়ার দেশেগুলোতে গরমে কাঁচা তালের শাঁস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার হিসেবে পরিচিত। তালের শাঁস খেতে অনেকটা নারকেলের মতই। কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।

তালের বীজও খাওয়া হয় লেপা বা “তালশাঁস” নামে । তাল গাছের কাণ্ড থেকেও রস সংগ্রহ হয় এবং তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি ইত্যাদি তৈরি হয়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সহ আরো অনেক খনিজ উপাদান। এর সাথে আরো আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান।

তাল শাঁসের মধ্যে বিদ্যমান উপাদানগুলো আপনার শরীরকে নানা রোগ থেকে রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • ক্যান্সারের মতো মরণ ব্যাধি রোগ থেকেও রক্ষা করে
  • স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে এবং শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
  • বমি ভাব আর মুখের অরুচিও দূর করে।
  • দাঁতের জন্য অনেক উপকারি। দাঁতের এনামেল ভালো রাখে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
  • তালের শাঁস হাড়কে শক্তিশালী করে তোলে।
  • রক্তশূন্যতা দূরীকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে।
  • তালের শাঁস খেলে লিভারের সমস্যা দূর হয়।
  • খাবারে রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • তালে শাঁস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে।
  • দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন।
  • তালে শাঁসে রয়েছে ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স যা শরীরের জন্য বিশেষভাবে উপকারি।
  • ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • তালশাঁস শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। এমনকি ক্ষয় হয়ে গেলে তা পূরণ করে।
  • তারুণ্য ধরে রাখে।
  • এতে চিনির পরিমাণ অতি অল্প মাত্রায় থাকে।
  • তালশাঁস ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়।
  • হাড়ের রোগ প্রতিরোধী হিসেবেও কাজ করে।

পুষ্টিগুণ:

তালের শাঁসকে নারিকেলের মতোই পুষ্টিকর বলে বিবেচনা করা হয়। মিষ্টি স্বাদের মোহনীয় গন্ধে ভরা প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাঁসে রয়েছে ৮৭ কিলোক্যালরি; ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; ৮৭.৬ গ্রাম পানি; ০.৮ গ্রাম আমিষ; ০.১ গ্রাম ফ্যাট; ১০.৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেটস; ১ গ্রাম খাদ্যআঁশ; ২৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; ৩০ মিলিগ্রাম ফসফরাস; ১ মিলিগ্রাম লৌহ; ০.০৪ গ্রাম থায়ামিন; ০.০২ মিলিগ্রাম রিবোফাভিন; ০.৩ মিলিগ্রাম নিয়াসিন এবং ৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

১০০ গ্রামের একটি তালের শাঁসের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশই থাকে জলীয় অংশ, ক্যালরি থাকে ২৯, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪ মিলিগ্রাম। শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেওয়া এই তালশাঁস কতটা উপকারী, তা জেনে নেওয়া যাক।

আরএম/ ১৬ জুন, ২০২১

Read More

আমলকীর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আমলকীর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আমলকী হল আমাদের দেহের জন্য সব চাইতে উপকারী ভেষজের মধ্যে একটি। এটি আপনি প্রতি দিনই খেতে পারেন এবং এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং আছে দারুণ সব উপকার। প্রতি দিন একটি করে আমলকী খেতে পারেন। আমলকী আপনার দেহেকে সুস্থ সবল রাখতে সাহ্যায্য করবে।

আমলকী এক ধরনের ভেষজ ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম ‘আমালিকা’। একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ৬ দশমিক ৫ গ্রাম আমলকী খান, তবে অনেক রোগ থেকেই মুক্ত থাকতে পারবেন।

আমলকীর ভেষজ গুণ রয়েছে অনেক। ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকীতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। দিনে দুটো আমলকী খেলে এ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। আমলকী খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকী ফলের জুড়ি নেই। এছাড়া পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী।

লিভার ও জন্ডিস রোগে উপকারী বলে আমলকী ফলটি বিবেচিত। আমলকী, হরিতকী ও বহেড়াকে একত্রে ত্রিফলা বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের তেল তৈরিতে আমলকী ব্যবহার হয়। কাঁচা আমলকী বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে দু-তিন ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এভাবে একমাস মাখলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল উঠা এবং তাড়াতড়ি চুল পাকা বন্ধ হবে।

আমলকীর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • আমলকী কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে।
  • বমি বন্ধে কাজ করে।
  • এটি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধক।
  • এটি দাঁত,চুল ও ত্বক ভাল রাখে।
  • এটি খাওয়ার রুচি বাড়ায়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, অম্ল,রক্তশূন্যতা, বমিভাব দূর করতে সাহায্য করে।
  • বহুমূত্র রোগে এটি উপকারী।
  • চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে।
  • প্রতিদিন সকালে আমলকীর জুস খাওয়া পেপটিক আলসার প্রতিরোধে কাজ করে।
  • আমলকী শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে এবং ওজন কমায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আমলকী খুব দ্রুত কাজ করে।
  • আমলকী চুলের গোড়া মজবুত এবং চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
  • আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে।
  • পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

  • আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।
  • আমলকী মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
  • মানসিক চাপ কমায়।
  • কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকী অনেক উপকারী।
  • ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী।
  • শরীর ঠাণ্ডা রাখে ।
  • শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে ।
  • পেশী মজবুত করে।
  • শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।
  • লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখে।
  • পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভালো কাজ করে।
  • ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • কোলেস্টেরল লেভেল কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

আরএম/ ১৫ জুন, ২০২১

Read More

জামরুলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

জামরুলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

এক রকমের হালকা সবুজ রঙের মিষ্টি ফল। লাল রঙের জামরুলও পাওয়া যায়। এই ফলকে ঢাকাইয়া ভাষায় আমরূজ ও বলা হয়। দেশের কোন কোন অঞ্চালে সাদা জাম অথবা মণ্ডল হিসাবে ও পরিচিত। সাধারনত বীজ থেকে গাছ হয়, কিন্তু ডাল কেটে জলে রাখলে শেকড় জন্মায়। এটি বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সামোয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশে জন্মে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে জামরুলের ব্যাপক চাষ হয়। বর্তমান মৌসুমটা চলছে ফলের। এসময়ে আমাদের কাছে বেশ সুপরিচিত একটি ফল হলো জামরুল। আমাদের দেশে প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যায় এই ফলটি। জামরুল সাধারণত দুই রকমের হয়ে থাকে সাদা এবং লাল। চলুন জেনে নেওয়া যাক জামরুলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ কি কি ও এর পুষ্টি উপদান সর্ম্পকে – জামরুলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণঃ

  • ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
  • হৃদরোগের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
  • শরীরের দূষিত পদার্থ দূর করে।
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ কার্যকর।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

  • মেদ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
  • লিভার ও মস্তিষ্কের সুরক্ষায় কাজ করে।
  • কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • হজমশক্তি বাড়ায়।
  • পেশিকে শক্তিশালী করে এবং পেশির ব্যথা দূর করে।
  • চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও এর ভূমিকা অনন্য।
  • প্রতিদিন একটি তাজা জামরুল খেলে আপনার পুষ্টিহীনতা কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব।

জামরুলের পুষ্টি উপাদান:

ক্যালরি শক্তি থাকে ১০০ গ্রাম থেকে ৫৬ গ্রাম, প্রোটিন ০.৫ থেকে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৪.২ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১.১ থেকে ১.৯ গ্রাম, ফ্যাট ০.২ থেকে ০.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৯ থেকে ৪৫.২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১১.৭ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৪৫ থেকে ১.২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৩৪.১ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৪.১ মিলিগ্রাম, কপার ০.০১ মিলিগ্রাম, সালফার ১৩ মিলিগ্রাম, ক্লোরিন ৪ মিলিগ্রাম এবং পানি ৪৫.৫ থেকে ৮৯.১ গ্রাম। এছাড়াও জামরুলে সামান্য পরিমাণে পাবেন ক্যারোটিন, থায়ামিন, নাইয়াসিন, এ্যাসকোরবিক এসিড।

আরএম/ ১৪ জুন, ২০২১

Read More

আতা ফলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আতা ফলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আতা হল এক ধরনের যৌগিক ফল। এটি শরিফা এবং নোনা নামেও পরিচিত। এই ফলের ভিতরে থাকে ছোট ছোট কোষ। প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকে একটি করে বীজ, বীজকে ঘিরে থাকা নরম ও রসালো অংশই খেতে হয়। পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাঁচা ফলের বীজ সাদা। বীজ বিষাক্ত। এটি গুচ্ছিত ফল অর্থাৎ একটি মাত্র পুষ্পের মুক্ত গর্ভাশয়গুলো হতে একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হয় ৷

এর বেশ কয়েকটি প্রজাতি ও প্রকরণ আছে। সবগুলোকেই ইংরেজিতে ‘কাস্টার্ড অ্যাপল’, ‘সুগার অ্যাপল’, ‘সুগার পাইন এপল’ বা ‘সুইটসপ’ (Custard-apple, Sugar-apple, sugar-pineapple or sweetsop) বলা হয়। সবগুলোকেই বাংলায় ‘আতা’, ‘শরিফা’, ‘নোনা’ -এই তিনটি নামে ডাকা হয়। অঞ্চলভেদে নামের কিছু পার্থক্য আছে।

আতা ফলের পুষ্টি ঔষধি গুণ:

  • হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • অপুষ্টিজনিত সমস্যায় আতাফলের রস বেশ উপকারী।
  • রক্ত শূন্যতা দূর করে।
  • রক্তকণিকা বাড়তেও সাহায্য করে আতা।
  • হাড় মজবুত করে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  •  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
  • খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করে দেয়।
  • ত্বক ও চুলের যত্নে আতা ফলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
  • ত্বকে বার্ধক্য বিলম্বিত করে এই ফলটি।
  • এতে উপস্থিত ভিটামিন এ এবং সি চোখ, চুল ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
  • এর পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ রক্তের উচ্চচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  • আতা ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের উপস্থিতি ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে, ফলে এটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

আতা ফলের পুষ্টিমান:

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলটির প্রতি ১০০ গ্রামে রয়েছে – শর্করা ২৫ গ্রাম, জল ৭২ গ্রাম, প্রোটিন ১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৯২ মিলিগ্রাম, থিয়ামিন ০.১ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাবিন ০.১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিয়ান ০.৫ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৪ মিলিগ্রাম।

আতা ফলের অপকারিতা:
কোনো গর্ভবতী নারীর আতার পাতা বা বীজ কোনো কিছুই ব্যবহার করা উচিত্‍ নয়। এতে গর্ভের ক্ষতি হয়ার সম্ভবনা থাকে।

আরএম/ ১৩ জুন, ২০২১

Read More

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ছিদ্র হওয়া রোগ হবে যাদের

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ছিদ্র হওয়া রোগ হবে যাদের

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ছিদ্র হওয়া রোগ হবে যাদের

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ছিদ্র হওয়া রোগ হবে যাদের

অস্টিওপোরোসিস কিঃ

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ে রোগ এমন একটি রোগ যাতে হাড়ের ঘনত্ব এবং গুণগতমান হ্রাস পায়, হাড় দূর্বল হয়ে যায়। হাড়গুলো ছিদ্র এবং ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

কখন হাড় ক্ষয় হয়:

হাড়ের ক্ষয় নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে ঘটে এবং এক সময় হাড় দুর্বল হয়ে যায়। প্রথম ফ্র্যাকচার না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই কোন লক্ষণ থাকে না। এটি প্রধানত নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যেসকল নারীর বয়স ৪৫ বছরের উপরে মাসিক বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা অপারেশন করে জরায়ু ফেলে দেয়া হয়েছে। তবে পুরুষেরও এ রোগ হয়ে থাকে।

এই রোগ বুঝার উপায়ঃ

  • ব্যাক পেইন, হাড় ভেঙ্গে গেলে, শীরদাড়ার হাড়ের উচ্চতা কমে গেলে।
  • শরীরের উচ্চতা আগের চেয়ে কিছুটা কমে গেলে।
  • কুজো হয়ে যাওয়া বা মেরুদণ্ড বেকে গেলে।
  • শরীরে মেঝ মেঝ, কামড়ানো জাতীয় হাড়ের ব্যথা বেদনা হলে।
  • হাড় ও জোড়া ব্যথার সাথে শব্দ হলে।
  • ব্যথার মাত্রা হালাকা থেকে মাঝারী ধরনের হয়ে থাকে। ব্যথা ক্রনিক বা দীর্ঘ মেয়াদি।

রোগ নির্ণয়ঃ

  • বিএমডি
  • এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই
  • ব্লাড টেস্ট (মিনারেল টেস্ট, ভিটামিন টেস্ট)

অস্টিওপোরোসিস এর কিছু ঝুঁকিঃ

  • অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। আপনার বয়স যদি ৬০ বছরের বেশি হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আলোচনা করুন।
  • সামান্য পড়ে যাওয়ার ফলে (দাঁড়ানোর উচ্চতা থেকে) হাড় ভেঙ্গে যাওয়া অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ।
  • একবার হাড় ভেঙ্গলে পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে আবার হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি বেশি।
  • যাদের বডি মাস ইনডেক্স (বি.এম.আই) ১৯ কেজি/মি এর নীচে, তাদের অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেশি।
  • অস্টিওপোরোসিস এর কারণে স্পাইন ফ্র্যাকচার হতে পারে। (সকল স্পাইন ফ্র্যাকচার ব্যথাযুক্ত নয়)।
  • অস্টিওপোরোসিসে হওয়া স্পাইন ফ্র্যাকচারের কারণে একজন মানুষের উচ্চতা ১.৫ ইঞ্চির মত কমে যেতে পারে।
  • আপনার মা বাবার যদি অস্টিওপোরোসিস থাকে তাহলে আপনারও হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • কিছু রোগের কারণেও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধুমপানের কারণেও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
  • কিছু স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধের কারণেও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
  • মেরুদণ্ড, হীপ বোন, কবজি ফ্রাকচার কমন হয়ে থাকে।

অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কিছু রোগঃ

  • রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস
  • অন্ত্রনালীর জটিলতা
  • মুত্রথলী অথবা স্তন ক্যান্সার
  • ডায়াবেটিস
  • দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি জটিলতা
  • থাইরয়েড এর সমস্যা
  • শ্বাসনালীর জটিলতা
  • হাইপোগোনাডিসম
  • পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • জরুয়ু কেটে ফেলা
  • অচলতা
  • এইডস

কি ভাবে প্রতিরোধ করবেন:

মূলত সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। দৈনিক ৩০-৪০ মিনিট ব্যায়াম এবং কিছু খাবার যেমন সবুজ শাক-সবজি, দধি, লেবুজাতীয় ফল, মাছ, বাদামজাতীয় খাবার এবং দুধ খেলে এর ঝুঁকি কমে। অস্টিওপোরোসিস রোধে ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা উচিত।

চিকিৎসাঃ

  • বিসফসফোনেটস (এলেনহ্রনেট, রিসেনড্রনেট, আইনেড্রনেট, জলিনড্রনেট)
  • ডেনুসুমেব।
  • রিহেবিলিটেশন – ফিজিক্যালথেরাপি।
  • সাপ্লিমেন্ট, মিনারেলস, ভিটামিনস।
  • শল্যচিকিৎসা।

তাই আজই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে নিশ্চিত করুন আপনার ও আপনার পরিবারের সুস্থ্যতা।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

(১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)

শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে

সিরিয়ালের জন্য ফোন: 01997702002 অথবা 09666774411

আরএম/ ১১ জুন, ২০২১

Read More

ডালিম বা বেদানার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

ডালিম বা বেদানার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

 

ছোট বড় সকলের অনেক প্রিয় এই ফল ডালিম। একদিকে এর আকর্ষণীয় রং ও স্বাদসহ অবর্ণনীয় পুষ্টি উপাদান ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। ডালিম ক্ষিদে বাড়নো, শরীর স্নিগ্ধ করা, মেদ ও বল বৃদ্ধি করা সহ রুচি বৃদ্ধি, অরুচি দূর, শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বাত ব্যধি দূরসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য গুনাগুণ। ডালিমের বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুণ সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। ডালিম বা বেদানার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী গুনাগুণ। তবে কিছুটা দামি হওয়ার কারণে অনেকেই ডালিম খেতে চান না। নিয়মিত ডালিম খেলে তা দেহের বহু উপকার পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেয়া যাক ডালিমের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে। ডালিম বা বেদানার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী গুনাগুণ। তবে কিছুটা দামি হওয়ার কারণে অনেকেই ডালিম খেতে চান না। নিয়মিত ডালিম খেলে তা দেহের বহু উপকার পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেয়া যাক ডালিমের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

 ডালিম বা বেদানার পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে।
  • দেহের ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
  • রক্তশূন্যতা দূর করে।
  • হাড় ভালো রাখে।
  • সর্দি-কাশি দূর করে।
  • দাঁতের যত্নে উপকারি।
  • রক্তে শর্করার পরিমানের ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • ডালিম বা বেদানার রস ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেক উপকারি খাদ্য।
  • বয়সের ছাপ কমায়।
  • রক্তের তারল্য ঠিক রাখে।
  • রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ায়।
  • আর্থ্রাইটিস থেকে রক্ষা করে।
  • স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
  • হজমে সহায়তা তরে।
  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি।
  • প্রাকৃতিক ইনসুলিন হিসেবে কাজ করে।
  • ডালিম ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী।

ডালিমের পুষ্টিমানঃ

ডালিম মজাদার ও পুষ্টিকর একটি ফল। ফলটির প্রচুর পুষ্টিগুণরয়েছে । এক কাপ ডালিম দানায় রয়েছে আপনার দৈনন্দিন চাহিদর ৩০ শতাংশ ভিটামিন সি, ৩৬ শতাংশ ভিটামিন কে, ১৬ শতাংশ ভিটামিন বি৯ ও ১২ শতাংশ পটাশিয়াম। এতে প্রচুর পরিমাণ ফসফরাস  রয়েছে যা কমলা, আপেল ও আমের চেয়ে চারগুণ, আতা ও আঙ্গুরের চেয়ে দ্বিগুণ, বরই ও আনারসের চেয়ে প্রায় সাতগুণ বেশি। এর প্রতি ১০০ গ্রাম ডালিমে ৭৮ ভাগ পানি, ১.৫ ভাগ আমিষ, ০.১ ভাগ স্নেহ, ৫.১ ভাগ আঁশ, ১৪.৫ ভাগ শর্করা, ০.৭ ভাগ খনিজ, ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম, ১৪ মিলিগ্রাম অক্সালিক এসিড, ৭০ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ০.৩ মিলিগ্রাম রিবোফ্লাভিন, ০.৩ মিলিগ্রাম নিয়াসিন, ১৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ইত্যাদি থাকে।

মেডিকেলবিডি/আরএম/ ১১ জুন, ২০২১

Read More