Welcome to, Dhaka Pain Physiotherapy & Rehabilitation Center (DPRC) Ltd.

Opening Hours : Always Open
  Hotline : 09 666 77 44 11

All Posts in Category: heath Tips

হাঁটুর অষ্টিও আর্থ্রাইটিস কারণ লক্ষণ ও উপসর্গ

হাঁটুর অষ্টিও আরথ্রাইটিস কারণ কী?
হাঁটুর অষ্টিও আর্থ্রাইটিস বয়সজনিত ক্ষয়রোগ হিসাবে পরিচিত। যদিও বয়স ছাড়াও বিভিন্ন কারণে হাঁটুর অষ্টিও আর্থরাইটিস হতে পারে। যেমন –
👉 প্রধান কারন হল বয়স।
👉 ওজন বেশী হলে হাঁটুর ওপর ধকল বেশী হয়।
👉 হাঁটুর গাঁটে আঘাত লাগলে হাঁটুর ক্ষতি হতে পারে।
👉 ভারী জিনিস তোলা, হাঁটু ভাঁজ করা, সিঁড়ি দিয়ে ক্রমাগত ওঠানামা করা, ফুটবল খেলা প্রভৃতি এসবেও হাঁটুর ওপর ধকল হয়।
👉 এছাড়া কার্টিলেজের ক্ষয়ের জন্য বংশগত কারণও থাকে।
👉 কম বয়সের হাঁটুর সমস্যা যেমন লিগামেন্ট বা কার্টিলেজ ছিঁড়ে যাওয়া, অথবা রিউমাটএড আরথ্রাইটিস বা স্পনডাইলো আরথ্রাইটিস থাকলে এবং তার চিকিৎসা ঠিক মত না হলে, অষ্টিও আর্থরাইটিস কম বয়সেই শুরু হতে পারে।
হাঁটুর অষ্টিও আরথ্রাইটিস এর লক্ষণ ও উপসর্গ গুলো কী?
👉 হাঁটুর অষ্টিও আরথ্রাইটিস এর প্রধান লক্ষণ হল হাঁটুর ব্যথা।
👉 সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা বা পরিশ্রমের পর হাঁটুর ব্যথা বেড়ে যাওয়া।
👉 সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা অনেকক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর হাঁটু আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া।
👉 চলাফেরা করার সময় হাঁটুর গাঁটে শব্দ হওয়া।
👉 হাঁটু ফুলে যাওয়া।
👉 উরুর মাংসপেশীর ক্ষয় হয়ে যাওয়া।
👉 হাঁটু ভাঁজ করার সময় ব্যথা হয়।
👉 ধীরে ধীরে সামান্য নড়াচড়াতেও অসহ্য ব্যথা ও অস্বস্তি হয়। এবং হাঁটু নড়ানো যায় না।
👉 হাঁটুর গাঁট আড়ষ্ট হয়ে যায়। বসে থাকা অবস্থাতেও ব্যথার অনুভুতি।
Read More

তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

 

গ্রীষ্মের অন্যতম একটি আরামদায়ক ফল হচ্ছে কাঁচা তাল অর্থাৎ তালের শাঁস। এশিয়ার দেশেগুলোতে গরমে কাঁচা তালের শাঁস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার হিসেবে পরিচিত। তালের শাঁস খেতে অনেকটা নারকেলের মতই। কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।

তালের বীজও খাওয়া হয় লেপা বা “তালশাঁস” নামে । তাল গাছের কাণ্ড থেকেও রস সংগ্রহ হয় এবং তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি ইত্যাদি তৈরি হয়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সহ আরো অনেক খনিজ উপাদান। এর সাথে আরো আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও এ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান।

তাল শাঁসের মধ্যে বিদ্যমান উপাদানগুলো আপনার শরীরকে নানা রোগ থেকে রক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

তালশাঁস এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • ক্যান্সারের মতো মরণ ব্যাধি রোগ থেকেও রক্ষা করে
  • স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে এবং শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
  • বমি ভাব আর মুখের অরুচিও দূর করে।
  • দাঁতের জন্য অনেক উপকারি। দাঁতের এনামেল ভালো রাখে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
  • তালের শাঁস হাড়কে শক্তিশালী করে তোলে।
  • রক্তশূন্যতা দূরীকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে।
  • তালের শাঁস খেলে লিভারের সমস্যা দূর হয়।
  • খাবারে রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • তালে শাঁস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে।
  • দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন।
  • তালে শাঁসে রয়েছে ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স যা শরীরের জন্য বিশেষভাবে উপকারি।
  • ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • তালশাঁস শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। এমনকি ক্ষয় হয়ে গেলে তা পূরণ করে।
  • তারুণ্য ধরে রাখে।
  • এতে চিনির পরিমাণ অতি অল্প মাত্রায় থাকে।
  • তালশাঁস ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়।
  • হাড়ের রোগ প্রতিরোধী হিসেবেও কাজ করে।

পুষ্টিগুণ:

তালের শাঁসকে নারিকেলের মতোই পুষ্টিকর বলে বিবেচনা করা হয়। মিষ্টি স্বাদের মোহনীয় গন্ধে ভরা প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাঁসে রয়েছে ৮৭ কিলোক্যালরি; ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; ৮৭.৬ গ্রাম পানি; ০.৮ গ্রাম আমিষ; ০.১ গ্রাম ফ্যাট; ১০.৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেটস; ১ গ্রাম খাদ্যআঁশ; ২৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম; ৩০ মিলিগ্রাম ফসফরাস; ১ মিলিগ্রাম লৌহ; ০.০৪ গ্রাম থায়ামিন; ০.০২ মিলিগ্রাম রিবোফাভিন; ০.৩ মিলিগ্রাম নিয়াসিন এবং ৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

১০০ গ্রামের একটি তালের শাঁসের ৯২ দশমিক ৩ শতাংশই থাকে জলীয় অংশ, ক্যালরি থাকে ২৯, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৪ মিলিগ্রাম। শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেওয়া এই তালশাঁস কতটা উপকারী, তা জেনে নেওয়া যাক।

আরএম/ ১৬ জুন, ২০২১

Read More

আমলকীর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আমলকীর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আমলকী হল আমাদের দেহের জন্য সব চাইতে উপকারী ভেষজের মধ্যে একটি। এটি আপনি প্রতি দিনই খেতে পারেন এবং এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং আছে দারুণ সব উপকার। প্রতি দিন একটি করে আমলকী খেতে পারেন। আমলকী আপনার দেহেকে সুস্থ সবল রাখতে সাহ্যায্য করবে।

আমলকী এক ধরনের ভেষজ ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম ‘আমালিকা’। একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ৬ দশমিক ৫ গ্রাম আমলকী খান, তবে অনেক রোগ থেকেই মুক্ত থাকতে পারবেন।

আমলকীর ভেষজ গুণ রয়েছে অনেক। ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে ৩ গুণ ও ১০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। আমলকীতে কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। দিনে দুটো আমলকী খেলে এ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। আমলকী খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকী ফলের জুড়ি নেই। এছাড়া পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী।

লিভার ও জন্ডিস রোগে উপকারী বলে আমলকী ফলটি বিবেচিত। আমলকী, হরিতকী ও বহেড়াকে একত্রে ত্রিফলা বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের তেল তৈরিতে আমলকী ব্যবহার হয়। কাঁচা আমলকী বেটে রস প্রতিদিন চুলে লাগিয়ে দু-তিন ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এভাবে একমাস মাখলে চুলের গোড়া শক্ত, চুল উঠা এবং তাড়াতড়ি চুল পাকা বন্ধ হবে।

আমলকীর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • আমলকী কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে।
  • বমি বন্ধে কাজ করে।
  • এটি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধক।
  • এটি দাঁত,চুল ও ত্বক ভাল রাখে।
  • এটি খাওয়ার রুচি বাড়ায়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, অম্ল,রক্তশূন্যতা, বমিভাব দূর করতে সাহায্য করে।
  • বহুমূত্র রোগে এটি উপকারী।
  • চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে।
  • প্রতিদিন সকালে আমলকীর জুস খাওয়া পেপটিক আলসার প্রতিরোধে কাজ করে।
  • আমলকী শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে এবং ওজন কমায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আমলকী খুব দ্রুত কাজ করে।
  • আমলকী চুলের গোড়া মজবুত এবং চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
  • আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে।
  • পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

  • আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।
  • আমলকী মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
  • মানসিক চাপ কমায়।
  • কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকী অনেক উপকারী।
  • ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকীর জুস উপকারী।
  • শরীর ঠাণ্ডা রাখে ।
  • শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে ।
  • পেশী মজবুত করে।
  • শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।
  • লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ও নখ ভাল রাখে।
  • পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভালো কাজ করে।
  • ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • কোলেস্টেরল লেভেল কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

আরএম/ ১৫ জুন, ২০২১

Read More

জামরুলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

জামরুলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

এক রকমের হালকা সবুজ রঙের মিষ্টি ফল। লাল রঙের জামরুলও পাওয়া যায়। এই ফলকে ঢাকাইয়া ভাষায় আমরূজ ও বলা হয়। দেশের কোন কোন অঞ্চালে সাদা জাম অথবা মণ্ডল হিসাবে ও পরিচিত। সাধারনত বীজ থেকে গাছ হয়, কিন্তু ডাল কেটে জলে রাখলে শেকড় জন্মায়। এটি বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সামোয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশে জন্মে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে জামরুলের ব্যাপক চাষ হয়। বর্তমান মৌসুমটা চলছে ফলের। এসময়ে আমাদের কাছে বেশ সুপরিচিত একটি ফল হলো জামরুল। আমাদের দেশে প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যায় এই ফলটি। জামরুল সাধারণত দুই রকমের হয়ে থাকে সাদা এবং লাল। চলুন জেনে নেওয়া যাক জামরুলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ কি কি ও এর পুষ্টি উপদান সর্ম্পকে – জামরুলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণঃ

  • ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
  • হৃদরোগের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
  • শরীরের দূষিত পদার্থ দূর করে।
  • দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ কার্যকর।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

  • মেদ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
  • লিভার ও মস্তিষ্কের সুরক্ষায় কাজ করে।
  • কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • হজমশক্তি বাড়ায়।
  • পেশিকে শক্তিশালী করে এবং পেশির ব্যথা দূর করে।
  • চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও এর ভূমিকা অনন্য।
  • প্রতিদিন একটি তাজা জামরুল খেলে আপনার পুষ্টিহীনতা কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব।

জামরুলের পুষ্টি উপাদান:

ক্যালরি শক্তি থাকে ১০০ গ্রাম থেকে ৫৬ গ্রাম, প্রোটিন ০.৫ থেকে ০.৭ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৪.২ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১.১ থেকে ১.৯ গ্রাম, ফ্যাট ০.২ থেকে ০.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৯ থেকে ৪৫.২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৪ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১১.৭ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৪৫ থেকে ১.২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৩৪.১ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩৪.১ মিলিগ্রাম, কপার ০.০১ মিলিগ্রাম, সালফার ১৩ মিলিগ্রাম, ক্লোরিন ৪ মিলিগ্রাম এবং পানি ৪৫.৫ থেকে ৮৯.১ গ্রাম। এছাড়াও জামরুলে সামান্য পরিমাণে পাবেন ক্যারোটিন, থায়ামিন, নাইয়াসিন, এ্যাসকোরবিক এসিড।

আরএম/ ১৪ জুন, ২০২১

Read More

আতা ফলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আতা ফলের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

আতা হল এক ধরনের যৌগিক ফল। এটি শরিফা এবং নোনা নামেও পরিচিত। এই ফলের ভিতরে থাকে ছোট ছোট কোষ। প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকে একটি করে বীজ, বীজকে ঘিরে থাকা নরম ও রসালো অংশই খেতে হয়। পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাঁচা ফলের বীজ সাদা। বীজ বিষাক্ত। এটি গুচ্ছিত ফল অর্থাৎ একটি মাত্র পুষ্পের মুক্ত গর্ভাশয়গুলো হতে একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হয় ৷

এর বেশ কয়েকটি প্রজাতি ও প্রকরণ আছে। সবগুলোকেই ইংরেজিতে ‘কাস্টার্ড অ্যাপল’, ‘সুগার অ্যাপল’, ‘সুগার পাইন এপল’ বা ‘সুইটসপ’ (Custard-apple, Sugar-apple, sugar-pineapple or sweetsop) বলা হয়। সবগুলোকেই বাংলায় ‘আতা’, ‘শরিফা’, ‘নোনা’ -এই তিনটি নামে ডাকা হয়। অঞ্চলভেদে নামের কিছু পার্থক্য আছে।

আতা ফলের পুষ্টি ঔষধি গুণ:

  • হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • অপুষ্টিজনিত সমস্যায় আতাফলের রস বেশ উপকারী।
  • রক্ত শূন্যতা দূর করে।
  • রক্তকণিকা বাড়তেও সাহায্য করে আতা।
  • হাড় মজবুত করে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  •  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।
  • খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করে দেয়।
  • ত্বক ও চুলের যত্নে আতা ফলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
  • ত্বকে বার্ধক্য বিলম্বিত করে এই ফলটি।
  • এতে উপস্থিত ভিটামিন এ এবং সি চোখ, চুল ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
  • এর পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ রক্তের উচ্চচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  • আতা ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের উপস্থিতি ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে, ফলে এটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারি।

আতা ফলের পুষ্টিমান:

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলটির প্রতি ১০০ গ্রামে রয়েছে – শর্করা ২৫ গ্রাম, জল ৭২ গ্রাম, প্রোটিন ১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৯২ মিলিগ্রাম, থিয়ামিন ০.১ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাবিন ০.১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিয়ান ০.৫ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৪ মিলিগ্রাম।

আতা ফলের অপকারিতা:
কোনো গর্ভবতী নারীর আতার পাতা বা বীজ কোনো কিছুই ব্যবহার করা উচিত্‍ নয়। এতে গর্ভের ক্ষতি হয়ার সম্ভবনা থাকে।

আরএম/ ১৩ জুন, ২০২১

Read More

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ছিদ্র হওয়া রোগ হবে যাদের

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ছিদ্র হওয়া রোগ হবে যাদের

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ছিদ্র হওয়া রোগ হবে যাদের

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ছিদ্র হওয়া রোগ হবে যাদের

অস্টিওপোরোসিস কিঃ

অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ে রোগ এমন একটি রোগ যাতে হাড়ের ঘনত্ব এবং গুণগতমান হ্রাস পায়, হাড় দূর্বল হয়ে যায়। হাড়গুলো ছিদ্র এবং ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

কখন হাড় ক্ষয় হয়:

হাড়ের ক্ষয় নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে ঘটে এবং এক সময় হাড় দুর্বল হয়ে যায়। প্রথম ফ্র্যাকচার না হওয়া পর্যন্ত প্রায়ই কোন লক্ষণ থাকে না। এটি প্রধানত নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে যেসকল নারীর বয়স ৪৫ বছরের উপরে মাসিক বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা অপারেশন করে জরায়ু ফেলে দেয়া হয়েছে। তবে পুরুষেরও এ রোগ হয়ে থাকে।

এই রোগ বুঝার উপায়ঃ

  • ব্যাক পেইন, হাড় ভেঙ্গে গেলে, শীরদাড়ার হাড়ের উচ্চতা কমে গেলে।
  • শরীরের উচ্চতা আগের চেয়ে কিছুটা কমে গেলে।
  • কুজো হয়ে যাওয়া বা মেরুদণ্ড বেকে গেলে।
  • শরীরে মেঝ মেঝ, কামড়ানো জাতীয় হাড়ের ব্যথা বেদনা হলে।
  • হাড় ও জোড়া ব্যথার সাথে শব্দ হলে।
  • ব্যথার মাত্রা হালাকা থেকে মাঝারী ধরনের হয়ে থাকে। ব্যথা ক্রনিক বা দীর্ঘ মেয়াদি।

রোগ নির্ণয়ঃ

  • বিএমডি
  • এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই
  • ব্লাড টেস্ট (মিনারেল টেস্ট, ভিটামিন টেস্ট)

অস্টিওপোরোসিস এর কিছু ঝুঁকিঃ

  • অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বয়স বাড়ার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। আপনার বয়স যদি ৬০ বছরের বেশি হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আলোচনা করুন।
  • সামান্য পড়ে যাওয়ার ফলে (দাঁড়ানোর উচ্চতা থেকে) হাড় ভেঙ্গে যাওয়া অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ।
  • একবার হাড় ভেঙ্গলে পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে আবার হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি বেশি।
  • যাদের বডি মাস ইনডেক্স (বি.এম.আই) ১৯ কেজি/মি এর নীচে, তাদের অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেশি।
  • অস্টিওপোরোসিস এর কারণে স্পাইন ফ্র্যাকচার হতে পারে। (সকল স্পাইন ফ্র্যাকচার ব্যথাযুক্ত নয়)।
  • অস্টিওপোরোসিসে হওয়া স্পাইন ফ্র্যাকচারের কারণে একজন মানুষের উচ্চতা ১.৫ ইঞ্চির মত কমে যেতে পারে।
  • আপনার মা বাবার যদি অস্টিওপোরোসিস থাকে তাহলে আপনারও হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • কিছু রোগের কারণেও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধুমপানের কারণেও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
  • কিছু স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধের কারণেও অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
  • মেরুদণ্ড, হীপ বোন, কবজি ফ্রাকচার কমন হয়ে থাকে।

অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কিছু রোগঃ

  • রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস
  • অন্ত্রনালীর জটিলতা
  • মুত্রথলী অথবা স্তন ক্যান্সার
  • ডায়াবেটিস
  • দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি জটিলতা
  • থাইরয়েড এর সমস্যা
  • শ্বাসনালীর জটিলতা
  • হাইপোগোনাডিসম
  • পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • জরুয়ু কেটে ফেলা
  • অচলতা
  • এইডস

কি ভাবে প্রতিরোধ করবেন:

মূলত সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। দৈনিক ৩০-৪০ মিনিট ব্যায়াম এবং কিছু খাবার যেমন সবুজ শাক-সবজি, দধি, লেবুজাতীয় ফল, মাছ, বাদামজাতীয় খাবার এবং দুধ খেলে এর ঝুঁকি কমে। অস্টিওপোরোসিস রোধে ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা উচিত।

চিকিৎসাঃ

  • বিসফসফোনেটস (এলেনহ্রনেট, রিসেনড্রনেট, আইনেড্রনেট, জলিনড্রনেট)
  • ডেনুসুমেব।
  • রিহেবিলিটেশন – ফিজিক্যালথেরাপি।
  • সাপ্লিমেন্ট, মিনারেলস, ভিটামিনস।
  • শল্যচিকিৎসা।

তাই আজই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে নিশ্চিত করুন আপনার ও আপনার পরিবারের সুস্থ্যতা।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

(১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)

শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে

সিরিয়ালের জন্য ফোন: 01997702002 অথবা 09666774411

আরএম/ ১১ জুন, ২০২১

Read More

জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

 

জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

জলপাই একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় টক ফল। এর বৈজ্ঞানিক নামঃ Elaeocarpus serratus, এটি সিলন অলিভ (Ceylon olive) নামেও পরিচিত।

জলপাই বাংলাদেশে একটি সুপরিচিত ফল। কাঁচা জলপাই বেশ পুষ্টিকর, প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। কাঁচা ফল টাটকা, রান্না করে ও আচার তৈরী করে খাওয়া হয়। জলপাই আচারের জন্য দুর্দান্ত। কাঁচা ফলগুলি প্রথমে সেদ্ধ করা হয়। তারপর কড়াইতে তেল গরম করে তাতে বিভিন্ন মসলার মধ্যে ঢেলে দিয়ে পরে চিনি ও জল দিয়ে আবার কিছুক্ষণ রান্না করার পর ঠাণ্ডা করে পরিবেশন বা সংরক্ষণ করা হয়।

জলপাইয়ের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, যা আপনার কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে যেমন সহায়তা করে; তেমনি ক্ষুদ্রান্ত থেকে শুরু করে পাকস্থলীর নানা জটিলতা সারিয়ে তুলতেও বেশ সহায়তা করে। অন্যদিকে জলপাই থেকে যে তেল পাওয়া যায়, তা খুব-ই উপকারী মানব শরীরের জন্য। তাই গুণেভরা এ ফলটি লিকুইড গোল্ড কিংবা তরল সোনা নামেও বেশ পরিচিত। কিছুটা পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, গ্রিক সভ্যতার শুরু থেকেই জলপাইয়ের চাহিদা ছিল তাদের কাছে অন্যান্য ফলের চেয়ে সবচেয়ে বেশি। রান্নার কাজ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞান- সব জায়গায়-ই তাই ইতিহাসের পাতায় মিলে জলপাইয়ের নানা ব্যবহার।

চলুন জেনে নেওয়া যাক জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ: –

জলপাই এর পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • সর্দি, জ্বর ইত্যাদি দূরে থাকে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ত্বক ও চুলের যত্নে খুবই কার্যকরী।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • জলপাইয়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হার্ট ব্লক হতে বাধা
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  • দেহের ভেতরের ফ্যাট সেলকে ভাঙতে সাহায্য করে।
  • কালো জলপাই আমাদের দেহে রক্ত চলাচল করাতে সহায়তা করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • হজমে সহায়তা করে।
  • জলপাই চোখের জন্য উপকারী।
  • জলপাই অ্যালার্জি প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • ত্বকের ইনফেকশন ও অন্যান্য ক্ষত সারাতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে।
  • জলপাই শরীরে দরকারি ভিটামিন ও অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করে।
  • জলপাইতে অলেইক এসিড রয়েছে, আর এই অলেইক এসিড হার্টের সুরক্ষার কাজ করে।
  • জলপাইতে পলিফেনল থাকে। এটা মস্তিষ্কে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়।
  • জলপাইতে অলেইক এসিড আছে। এই অলেইক এসিড ত্বককে রাখে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর।
  • নিয়মিত জলপাই খেলে ত্বকের বলিরেখা ২০ শতাংশ কমে যাবে।

জলপাই এর পুষ্টিমান:

প্রতি ১০০ গ্রাম জলপাইয়ে খাদ্যশক্তি ৭০ কিলোক্যালরি, ৯ দশমিক ৭ শর্করা, ৫৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি।

আরএম/ ১১ জুন, ২০২১

Read More

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত বা গাউট হচ্ছে একটি প্রদাহজনিত রোগ; এতে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি ও এর আশেপাশের টিস্যুতে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল জমা হয়। সাধারণত মাত্র ১-২% লোক এই রোগে আক্রান্ত হয় তবে মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা ৫ গুণ বেশি আক্রান্ত হয়। এটি পুরুষ ও বৃদ্ধা মহিলাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষণীয় প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস। পুরুষরা সাধারণত ৩০ বছরের পর এবং মহিলারা ৪০ বছরের পরে বেশি আক্রান্ত হয়। বয়স বৃদ্ধি ও রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে তবে বয়স ও ওজন বাড়লে রক্তে ইউরিক এসিডও বাড়বে। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে তাকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলে।

রক্তে ইউরিক এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা হলো পুরুষের ক্ষেত্রে ২.০-৭.০ mg/dL ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.০-৬.০ mg/dL।

যদিও হাইপারইউরিসেমিয়ার ফলে উচ্চরক্তচাপ, ভাস্কুলার রোগ, বৃক্কীয় রোগ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়লেও খুব অল্পসংখ্যক লোকের ক্ষেত্রে গাউট করে। সাম্প্রতিককালে মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পাওয়া ও মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত হবার হার বেড়ে যাওয়ার সাথে সমান্তরালভাবে গাউটে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। ঐতিহাসিকভাবে এটাকে “রাজাদের রোগ” বা ধনীদের রোগ বলে।

রোগটি হওয়ার প্যাথলজি:

আমাদের শরীরের মূল্যবান একটি উপাদান পিউরিন। পিউরিন মেটাবলিজম থেকে এই রোগের উৎপত্তি হয়। পিউরিন যখন ভেঙে যায় এবং ভেঙে গিয়ে যখন সর্বশেষ অবস্থায় পরিণত হয় তখন আমরা এটাকে বলি ইউরিক এসিড। ইউরিক এসিড যখন শরীরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং জমা হতে থাকে, বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ এবং জয়েন্টের মধ্যে তখন এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়।

গেঁটে বাত একপ্রকার সিনড্রোম, যা ইউরেট নামের একধরনের লবণদানা জমে জোড়া বা সঞ্চিত সৃষ্ট প্রদাহ, যা শরীরের রক্তের প্লাজমায় অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির ফলে ঘটে থাকে। গেঁটে বাত স্বল্পকালীন তীব্র প্রদাহ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ—এই দুই প্রকারের হতে পারে। আবার যে কারণে রক্তের ইউরেট লবণ বেড়ে যায়, তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন পারিপার্শ্বিক বা পরিবেশগত কারণ, ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাসের কারণে বা ব্যক্তির জন্মগত ত্রুটির কারণে, যাকে জেনেটিক কারণও বলা যায়।

অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড দেহে দুইভাবে জমতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন ও ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে নির্গত হতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া। ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে সাধারণত কিডনির সাহায্যে বের হয়। কোনো কারণে, বিশেষ করে কিডনির রোগের কারণে কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাসে অসুবিধা হতে পারে।

কিভাবে রোগী বুঝবে?

এটি সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের জয়েন্টকে আক্রান্ত করে। গাউটের সঙ্গে যুক্ত কিছু সাধারণ লক্ষণ এবং উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • হাঁটু, পায়ের আঙ্গুল, কনুই এবং হাতের আঙ্গুল গুরুতর এবং আকস্মিক ব্যথা।
  • প্রভাবিত অংশের উপর গরম ত্বক ফোলা এবং লাল হওয়া।
  • জ্বর এবং কাঁপুনি।
  • এটি হঠাৎ করে বাহ্যিক কোন কারণ ছাড়ায় হতে পারে এবং সাধারণত রাতে বেশি হয়।
  • খুব দ্রুত ব্যথা শুরু হয়ে ২-৬ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে
  • প্রায়শই ভোরবেলা রোগীর ঘুম ভেঙ্গে যায়।
  • ব্যথা এতই তীব্র হয় যে রোগী পায়ে মোজা পরতেও পারেনা
  • আক্রান্ত জয়েন্ট বেশ ফুলে যায়
  • অবসাদগ্রস্ততা থাকতে পারে।
  • আক্রান্ত স্থান চুলকায় ও চামড়া উঠে যেতে পারে।
  • জয়েন্ট ও এর আশেপাশের টিস্যুতে ক্রিস্টাল জমা হয়ে নডিউল বা দলা তৈরি করতে পারে। টোফাসে ঘা হতে পারে
  • প্রদাহ হয়ে পুঁজ বের হতে পারে।
  • ক্ষতিগ্রস্ত গাঁট খুব কম নড়ানো যায়।

কারণগুলি কি কি:

  • আপনার রক্ত প্রবাহে ইউরিক অ্যাসিড জমে যাওয়া এবং জয়েন্টে ইউরেট স্ফটিকের গঠন হওয়া।
  • জিনগত এবং পরিবেশগত বিষয়গুলির সমন্বয়।
  • খাদ্যে নির্দিষ্ট পিউরিনের মাত্রা।
  • স্থূলতা।
  • অতিরিক্ত মদ খাওয়া।
  • সিউডোগাউট (বা একিউট ক্যালসিয়াম পাইরোফসফেট আর্থ্রাইটিস)।

শরীরের কোন কোন জোড়া বা স্থান আক্রান্ত হয়:

শতকরা ৫০ জনের দেখা যায়, বুড়ো আঙ্গুলের মাথা থেকে শুরু হয়। বাকি ৫০ শতাংশের বুড়ো আঙ্গুলের মাথা ছাড়াও হচ্ছে। অর্থাৎ পায়ের পাতার অন্যান্য যে অংশগুলো বা পাতার জয়েন্টগুলো থেকে এই ব্যথার উৎপত্তি হতে পারে।  আরো একটু উপরের দিকে, আমরা যেটাকে বলি গোড়ালির জয়েন্ট; সেটা থেকেও হতে পারে। তারপর আরো একটু উপরে হাঁটু পর্যন্ত হতে পারে। এখানে একটি বিষয় মজার, গাউট কিন্তু একটু দূরের জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করতে চায়। একজন যদি মেরুদণ্ড, কোমর বা ব্যাকপেইন নিয়ে আসে আমার প্রথমেই চিন্তুা হবে এটা গাউটের বাত নয়। গাউটের বাত হবে একটু পেরিফেরির দিকে। পায়ের দিকে, হাতেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ছোট ছোট জয়েন্টগুলো আক্রমণ করতে পারে। তবে হাতে আক্রমণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়।

কী খাওয়া যাবে না:

  • কোমল পানীয়।
  • প্রাণীর কলিজা।
  • মগজ।
  • গিলা।
  • গরু, খাসি, ভেড়ার মাংস (চার পা পশুর মাংস)।
  • সামুদ্রিক মাছ সতর্কতার সাথে খেতে হবে।
  • ডাল জাতীয় খাবার।
  • চিনি ও তৈরী মিষ্টান্ন।

গাউটের জটিলতা হল:

১. কিডনি স্টোন: 

গাউটে আক্রান্তদের মূত্রনালিতে ইউরেট ক্রিস্টাল তৈরি হয়, যা কিডনি স্টোনের কারণ। ওষুধের প্রয়োগে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কমানো যায়।

২. পরিণত বা অ্যাডভানস গাউট:

গাউটের চিকিৎসা না হলে, ত্বকের নীচে ইউরেট ক্রিস্টাল গুটি বা ক্ষুদ্র আবের আকারে তৈরি হয়ে ও জমা হয়, যাকে টোফি (টো-ফাই) বলে এবং এটা হাতে, আঙুলে, পায়ে, অ্যাকিলিস টেন্ডন বা কনুই এবং গোড়ালির পেছন দিকে হতে পারে। এই ক্ষুদ্র আব বা গুটি ব্যথার উদ্রেক না করলেও, গাউটের সময়ে নরম হয়ে ফুলে যায়।

৩. বার বার হওয়া বা রেকারেন্ট গাউট:

অনেকেই গাউটের লক্ষণ বুঝতে না পারলেও, অন্যরা কিন্তু প্রত্যেক বছর অনেক বার গাউটের লক্ষণ বুঝতে পারে। বার বার গাউট হলে, ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব। চিকিৎসা না হলে ক্ষয় হয় এবং শেষপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গাঁট ধ্বংস হয়ে যায়।

৪. অবসাদ ও হতাশা গ্রস্ততা:

অনেক সময় রোগীর অবসাদ ও হাতাশা গ্রস্ততা হতে পারে। কোনো ‍কিছুতে ভালো না লাগা। কোনো কাজ করতে না ইচ্ছা হওয়া। এছাড়াও শরীর সবসময়ই দূর্বল লাগতে পারে।

রোগ নির্ণয় 

  • রোগীর পূর্ব ইতিহাস থাকে জানা যায়।
  • মাঝরাতে তার তীব্র ব্যথা হচ্ছে কিনা।
  • চামড়াটা লাল হয়ে যাবে।
  • ফুলে যাবে।
  • রোগীর হাঁটতে কষ্ট হবে।
  • সিনোভিয়াল ফ্লুয়িড পরীক্ষা
  • ডুয়াল এনার্জি সিটি স্ক্যান
  • আলট্রাসাউন্ড
  • এক্স-রে 
  • অনেক সময় রোগীর জয়েন্ট থেকে ফ্লুইড নিয়ে মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করা।
  • এছাড়াও ক্লিনিক্যাল ফিচার দেখে বুঝা যায়।
  • রক্ত পরীক্ষা
  • স্পাইকের মতো রড আকৃতির ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল যা অস্থিসন্ধি থেকে নেয়া তরল থেকে পাওয়া।
  • জয়েন্ট থেকে তরল বের করে পরীক্ষা করলে ইউরেট ক্রিস্টাল পাওয়া যাবে।
  • ব্লাড গ্লুকোজ।
  • লিপিড প্রোফাইল।
  • এক্সরে- ক্রনিক গাউটে অস্থিক্ষয়ের চিহ্ন পাওয়া যায়
  • এছাড়া অ্যাকিউট গাউটে ESR, CRP, নিউট্রোফিল ও ইউরিক এসিডের সংখ্যা বেড়ে যায়।

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ এর চিকিৎসা ওষুধ:

চিকিৎসা:

গাউটের চিকিৎসা নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির মাধ্যমে হয়:

  • খাদ্য এবং জীবনধারায় পরিবর্তন করে।
  • হাইপারইউরিসেমিয়ার সঙ্গে যুক্ত ওষুধগুলি পরিবর্তন করে অথবা বন্ধ করে (যেমন, ডিউরেটিক)।
  • ইউরিক অ্যাসিড কমানোর এজেন্টের ব্যবহার।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য খেয়ে।
  • পর্যাপ্ত মাত্রায় শারীরিক কার্যকলাপ করে।
  • আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগাতে হবে।
  • বিশ্রামে রাখতে হবে।
  • অ্যালোপিউরিনল।
  • ফেবুক্সস্ট্যাট।
  • বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
  • ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে।
  • মদ্যপানের অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে।
  • প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাছ, মাংস (হাঁস, ভেড়া, কবুতর, খাসি ইত্যাদি), ডিম, শিমের বিচি, কলিজা ইত্যাদি খাওয়া যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে।
  • যেসব রোগের কারণে গিঁটে ব্যথা হয়, সেসব রোগের যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে।
  • কিছু ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • রিহ্যাবিলিটেশন ও ফিজিক্যাল থেরাপি।
  • ওজন কমাতে হবে।
  • কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী।
  • বেশি পিউরিন আছে এমন খাবার কম খাওয়া ভালো যেমনঃ বিভিন্ন ধরনের ডাল বিশেষ করে মসুর ডাল ও মটর ডাল। শিম, শিমের বিচি, বরবটি, মটরশুঁটি, কড়াইশুঁটি, পুঁইশাক, পালং শাক, অ্যাসপ্যারাগাস, ফুলকপি, মাশরুম, কচু, ইস্ট, লাল মাংস যেমন গরু, খাসি, ভেড়া, হরিণ, সব ধরনের হাঁসের মাংস যেমন- রাজহাঁস, জংলি হাঁস ও পাতিহাঁস; শূকর ও খরগোসের মাংস, বড় পাখির বা তুর্কি মোরগের মাংস, কবুতর ও তিতির পাখির মাংস। মগজ, কলিজা, বৃক্ক, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, জিহ্বা, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ও মাছের ডিম, সামুদ্রিক খাবার, কাঁকড়া, চিংড়ি, শামুক ইত্যাদি।
  • ফলমূল, অন্যান্য শাকসবজি প্রচুর খেতে হবে।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচা মরিচ, আমলকী, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি প্রচুর খেতে হবে।
  • কম পিউরিন সমৃদ্ধ আরো খাবারের মধ্যে আছে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য (দৈ, ঘি, মাখন), ডিম, চীনাবাদাম, লেটুস, পাস্তা, সাগু, ময়দা ইত্যাদি।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে যেন প্রতিদিন ২ লিটার বা তার বেশি প্রস্রাব হয় এতে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং ইউরিনারি ট্রাক্টে ইউরেট জমা হয়ে পাথর হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
  • যে সকল ওষুধ ইউরিক এসিড লেভেল বাড়ায় যেমন থিয়াজাইড ডাইউরেটিকস্, অ্যাসপিরিন, নিয়াসিন ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

ওষুধ

১. করটিকোস্টেরয়েড:

এই ওষুধগুলো ড্রাগ প্রেডনিসোনের মতন, যা গাউটের ব্যথা এবং জ্বালা-লাল হয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই ওষুধ পিল হিসেবে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে গাঁটে দেওয়া যায়।

২. কলচিসাইন:

ডাক্তার কলচিসাইনের পরামর্শ দিতে পারেন, এই ব্যথা নিরাময় কারি ওষুধ কার্যকারীভাবে  গাউটের ব্যথার উপশম করে।

৩. অন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি ড্রাগ:

এনএসএআইডি-র মধ্যে দোকানে পাওয়া ওষুধের ভেতরে নাপ্রোক্সিন সোডিয়াম ও ইবুপ্রোফান অন্যতম। শক্তিশালী এনএসএআইডি-র মধ্যে সেলেকোক্সিব বা ইন্ডোমিথাসিন অন্যতম।

৪. ইউরিক অ্যাসিডের উন্নততর নিষ্কাশন করে যে ওষুধ:

প্রোবেনেসাইড কিডনির ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিডের নিষ্কাশন বাড়ায়। এভাবে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং গাউট হবার ঝুঁকি কমলেও, মূত্রে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কিন্তু বেড়ে যায়।

৫. ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন বন্ধ করে যে ওষুধ:

এক্সানথাইন অক্সিডেজ ইনহিবিটারের মতন ওষুধের মধ্যে ফেবুক্সোস্টাট এবং অ্যালোপুরিনল অন্যতম, যা শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং যার জন্য রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং গাউট হবার ঝুঁকি কমে যায়।

চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো ব্যথা কমানো। এক্ষেত্রে NSAID যেমন ন্যাপ্রক্সেন, আইবুপ্রফেন, ইনডোমেথাসিন খুবই কার্যকর। আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগালে কিছুটা উপশম পাওয়া যায়। কোলচিসিন একটি কার্যকরী ঔষধ তবে এটি বমি ও ডায়রিয়া করতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ রোগের তীব্রতা কমাতে খুব ফলপ্রসূ। এক্ষেত্রে আক্রান্ত জয়েন্টে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দিলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ হলো ইউরেট এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনা; এক্ষত্রে জ্যানথিন অক্সিডেজ ইনহিবিটর যেমন অ্যালোপিউরিনল, ফেবুক্সোস্ট্যাট ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখতে ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ শুরু করার পরপর গাউটের ব্যথা বাড়তে পারে। রোগীকে পূর্বেই এ ব্যাপারে সতর্ক ও আশ্বস্ত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ না রেখে খাওয়া চালিয়ে যাবার কথা বলা হয়। প্রতি ৬ মাস পর ইউরিক এসিড লেভেল মনিটর করার সুপারিশ করা হয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেট কমানোর ঔষধ চালিয়ে যেতে হয়।

আরেকরকম ঔষধ হলো ইউরিকোসুরিক ড্রাগস যেমন প্রবেনিসিড অথবা সালফিপাইরাজোন, এগুলোও বেশ কার্যকর। কিডনি খারাপ থাকলে বা যাদের শরীরে ইউরিক এসিড বেশি তৈরি হয় তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ নিষিদ্ধ কারণ এটি কিডনিতে পাথর করতে পারে।

পিগ্লোটিকেজ (একটি রিকম্বিনান্ট ইউরিকেজ) নামে আরেকটি ঔষধ আছে যেটি টোফাসযুক্ত গাউট সাধারণ চিকিৎসায় ভালো না হলে ব্যবহার করা হয় তবে এর একটি অসুবিধা হলো এটাতে অ্যানাফাইল্যাক্টিক রিয়াকশন হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

(১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)

শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে

সিরিয়ালের জন্য ফোন: 01997702002 অথবা 09666774411

মেডিকেলবিডি/আরএম/ ৭ জুন, ২০২১

Read More

সুস্থ দীর্ঘায়ু পেতে করণীয়

সব মানুষই চায় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন।এর জন্য যে কাজ গুলো করতে হয় তা করতে গিয়ে অনেকেই হোঁচট খান। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই তা আমরা করতে পারি না বা আমাদের করা হয়ে উঠে না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই এবং অনেক কারণেই আমাদের দৈহিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মক্ষিন ও আমাদের হতে হয়।

বর্তমান শতাব্দীতে উন্নত ঔষধ, উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ ও ব্যাক্তি সতর্কতার ফলে বিশ্বের প্রথম সাড়ির দেশ গুলুতে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুধুমাত্র দীর্ঘ জীবন নয় সুস্থ ও সুন্দর জীবন পাওয়ার জন্য কতগুলো নিয়ম মেনে চলা এবং অভ্যাস পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই কোন নিয়ম বা অভ্যাস গুলো অনুসরণের করলে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায়:

  • শুরুতে ১০ মিনিট হাঁটুন। ২-৩ দিন পর সময় বৃদ্ধি করুন। এভাবে ১০-১৫-২৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিটে উন্নীত করুন।
  • সবুজ শাকসবজি, দেশীয় ও মৌসুমি ফলমূল প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।
  • লাল মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস ও বিভিন্ন ধরনের মাছ খেতে হবে।
  • সপ্তাহে অন্তত ১ দিন নিরামিষ খেতে পারেন।
  • ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিায়াজানত খাবার থেকে এড়িয়ে চলুন।
  • যতদূর সম্ভব সোডিয়াম ও অন্যান্য লবণ এড়িয়ে চলুন।
  • রান্নার ক্ষেত্রে পরিমিত লবণ ব্যবহার করতে হবে।
  • খাবার সময় আলগা লবণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

  • খাবার সংরক্ষণে লবণ ব্যবহার না করে লেবুর রস, কাঁচা রসুন, ভিনেগার ও সমলা ব্যবহার করুন।
  • যেকোনো খাবার কেনার ক্ষেত্রে পণ্যের প্যাকেটে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে অপেক্ষাকৃত কম সোডিয়ামসমৃদ্ধ খাবার কেনার চেষ্টা করতে হবে।
  • কায়িক পরিশ্রম করতে হবে, নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস করুন।
  • নিয়মিত হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে।
  • নিকটবর্তী গন্তব্যে বা অফিসে হেঁটে বা সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • দিনে অন্তত ১০ মিনিট সাধারণ ব্যায়াম করা উচিত।
  • লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।
  • ধুমপান ও মদ্যপান বা অ্যালকোহল একমদই গ্রহণ করা যাবে না।
  • দিনে ঘুমাবেন না, রাতে তারাতারি শুয়ে পরুন।
  • নুন্যতম ৬-৮ ঘন্টা দৈনিক ঘুমের প্রয়োজন।
  • মোবাইল, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ইলেট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন।
  • যেকোনো পরিস্থিতিতে সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখুন।
  • আত্বীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

  • কথাবর্তায় কর্কশ হবেন না।
  • রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
  • অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
  • অহংকার করবেন না।
  • লোকদের সাথে ধীরস্থির হয়ে শান্তভাবে কথা বলুন।
  • উচ্চস্বরে কথা বলবেন না।
  • পিতামাতার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করুন।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭, (শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে)

সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১ অথবা ০১৯৯-৭৭০২০০১

আরএম/৬ জুন, ২০২১

Read More

কারপাল টানেল সিনড্রোম কী, কারণ ও করণীয়

কারপাল টানেল সিনড্রোম এক প্রকারের কব্জির প্রদাহজনিত রোগ। কারপাল টানেল অর্থাৎ কব্জির হাড়গুলির ও সংশ্লিষ্ট কব্জি ভাজকরার পেশীগুলির সংযোগকারী টেন্ডন সমূহের মধ্যবর্তী সুড়ঙ্গে মিডিয়ান স্নায়ুর নিষ্পেষণ/পীড়ন জনিত কারণে এই প্রদাহ হয়ে থাকে। সাধারণত কব্জির উপর ক্রমাগত চাপ পড়ার ফলে এই রোগ হয়ে থাকে। যেমন – অনেকক্ষণ ধরে টাইপ করা, কম্পিউটারের মাউসের অতিরিক্ত ব্যবহার ইত্যাদি। সাধারণত এই ধরনের কাজে এ রোগ হয়ে থাকে।

কারপাল টানেল সিনড্রোম কেন হয়?

কারপাল টানেল সিনড্রোম অনেক কারণেই হয়ে হতে পারে। যে হাড়গুলো একত্র হয়ে আমাদের কব্জি গঠন করে, সেই হাড়গুলোকে মেডিকেলের পরিভাষায় কারপাল বোনস বলা হয়। কব্জিতে সেই হাড়গুলোর মধ্যে একটি ছোট্ট টানেল রয়েছে, যার নাম কারপাল টানেল। এই টানেলের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন শিরা ও স্নায়ু হাতে প্রবেশ করে। এর অন্যতম হলো মিডিয়ান নার্ভ। কোনো কারণে এ টানেলের মধ্যকার নাভর্টি চাপ খেলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া ফুলে যাওয়া, পানি জমা ইত্যাদি কারণেও এমন হতে পারে। স্থূলতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও এসএলই ইত্যাদি রোগ এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করার কারণে টানেলের ওপর চাপ পড়ে। যেমন— সেলাই করা, টাইপ করা, মাউস ব্যবহার, লেখালেখি করা, টেনিস খেলা, গলফ খেলা, গিটার বাজানো বা বেহালা বাজানো ইত্যাদি। এছাড়াও-

  • দীর্ঘ সময় ধরে বারংবার একই কাজ (রিপিটিটিভ স্ট্রেস ইনজুরি)
  • হাত বা কব্জি চাপ দিয়ে কাজ করা
  • কব্জি বিশৃঙ্খল ভাবে রাখা
  • কম্পন

হাতের কব্জি থেকে হাতের তালু ও আঙুলগুলো অবশ হয়ে আসা, ঝিনঝিন করা, আবার কখনো ব্যথা হওয়া বা ফুলে যাওয়া—এই সমস্যাগুলো সাধারণত যে রোগের কারণে দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো কারপাল টানেল সিনড্রোম।

কারপাল টানেল সিনড্রোম এর লক্ষণ:-

  • বেশি সময় কাজ করতে না পারা
  • হাতের পেশীতে খুব ঘন ঘন ব্যথা হওয়া
  • হাত অসাড় মনে হওয়া
  • হাতে শক্তি না পাওয়া।
  • হাতে ব্যথা এবং জ্বালা অনুভব করা
  • আপনার হাতের আঙুলে অসাড়তা এবং ব্যথা
  • হাতের পেশীগুলিতে দুর্বলতা
  • রাতে কব্জি ব্যথা যা ঘুমের ব্য়াঘাত ঘটায়
  • কব্জিসন্ধিতে ব্যাথা বা অস্বস্তি লাগা
  • ঝিনঝিন করা

কারপাল টানেল সিনড্রোমের ঝুঁকি:-

  • মহিলাদের এই সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি থাকে পুরুষদের তুলনায়।
  • এই অবস্থাটি সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে দেখা যায়।
  • লাইফস্টাইল এবং অভ্যাস যেমন বেশি লবণ গ্রহণ, ধূমপান, হাই বডি মাস ইনডেক্স (BMI) কারপাল টানেল সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং বাতের কারণে বেশি হতে পারে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে বারবার একই কাজ করার কারণেও এর ঝুঁকি বাড়ে।চিকিৎসা

চিকিৎসা:

কারপাল টানেল সিনড্রোম থেকে কিছু উপায়ে মুক্ত হতে পারেন। স্নায়ুর ব্যথা কমানোর ওষুধ ও পাশাপাশি রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা এবং হাতের বিশ্রামের জন্য স্ল্পিন্ট ব্যবহার খুবই কার্যকরী । এই রোগে রিহেব-ফিজিও চিকিৎসা খুবই উপকারী এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে সুস্থ হওয়া সম্ভব। ওষুধ ও রিহেব-ফিজিও চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময় না হলে কখনো কখনো সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। যদি কাজ করার সময় আপনার হাতগুলি বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে তবে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য বিরতি নিন এবং আপনার হাত প্রসারিত করুন, হাতের ভঙ্গিতে মনোযোগ দিন পরিবর্তণ করুন। এগুলি ছাড়াও এমন কিছু ক্রিয়াকলাপ এড়িয়ে চলুন যা আপনার কব্জিকে এই সিন্ড্রোমের দিকে ঠেলে দেয়।

পরামর্শ

পরামর্শ গুলো সব সময় মনে রাখবেন যে যাঁরা টেবিলে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, লেখেন কিংবা কম্পিউটারে টাইপ করেন, তাঁরা প্রতি ৩০ মিনিট পরপর সামান্য বিরতি নিতে পারেন। হাতের বাহু যেন কাজের সময় বিশ্রামে থাকে। টেবিল ও হাতের ব্যবধান ঠিক করে নিন, যাতে হাত টেবিলের সমান্তরালে থাকে। মাঝেমধ্যে টাইপ করা বা লেখার বিরতিতে রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞের নির্দেশিত হাতের ব্যায়ামগুলো করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, কারপাল টানেল সিন্ড্রোম সময়ের সাথে সাথে আরো খারাপ দিকে যায়, স্নায়ুর ক্ষতি করে। মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যার প্রবণতা বেশি হয়। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থায় প্রায়ই এই সমস্যা প্রকট আকারে দেখা দেয়। কারপাল টানেল সিনড্রোমের কারণ এটি মিডিয়ান স্নায়ুতে চাপের কারণে ঘটে এবং অতিরিক্ত প্রদাহের কারণে ফুলে যায়।

  • হালকাভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করুন
  • হাত বা কব্জিকে নিরপেক্ষ রাখুন
  • একটু পর পর হাত পরিবর্তন করুন
  • একটু পর পর হাতকে প্রসারিত করা
  • বিরতি নিন
  • দেহ বিন্যাস ঠিক রাখুন
  • উষ্ণ থাকুন।
  • কীবোর্ড ও মাউস সঠিক ভাবে ব্যবহার করুন।
  • একজন পেশাগত রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ দেখান।

কারপাল টানেল সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সাধারণ কারণ যেমন:-

  • বাত ব্যথা জনিত কারণ।
  • উচ্চ রক্তচাপ।
  • থাইরয়েডের সমস্যা।
  • ডায়াবেটিস।
  • গর্ভকালীন ও মেনোপজের পর নারীদের এই সমস্যা বেশি হতে পারে।
  • কব্জিতে কোনো সমস্যা।
  • অটোইমিউন ডিসঅর্ডারস (আর্থ্রাইটিস)।
  • দীর্ঘ সময় ধরে বারবার একই কাজ।
  • চাপ দিয়ে কাজ করা।
  • কী বোর্ড বা মাউস ব্যবহার করার সময় কব্জি বিশৃঙ্খলভাবে রাখা।
  • কারো কারো ক্ষেত্রে এটি বংশগত হতে পারে।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭, (শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে)

সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১ অথবা ০১৯৯-৭৭০২০০১

আরএম/ ৬ জুন, ২০২১

Read More